বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম ২০২৬ সালের ৫ জুন পর্যন্ত মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে ভ্রমণকারী যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কিছু রুটে পূর্বের স্থগিতাদেশের কারণে কুয়েত, শারজাহ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের ভ্রমণের আগে ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
বর্তমানে দোহা, দুবাই ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এসব গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কুয়েত রুট নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। ৩ জুন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। ফলে কুয়েতগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সরাসরি বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শারজাহ ও দাম্মাম রুট সম্পর্কেও সর্বশেষ কোনো স্পষ্ট পুনরায় চালুর ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এ কারণে এসব গন্তব্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের টিকিটিং অফিস, ট্রাভেল এজেন্সি অথবা বিমানের কল সেন্টারের মাধ্যমে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে এই রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বহরের সীমাবদ্ধতা এবং হজ কার্যক্রমের কারণে সাময়িকভাবে এই রুট স্থগিত করা হয়েছিল।
বিমান বর্তমানে জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ ও মাসকাটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া করাচি, কাঠমান্ডু, দিল্লি, কলকাতা, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুর রুটেও ফ্লাইট চলমান রয়েছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে লন্ডন হিথ্রো, রোম এবং টরন্টো রুটেও বিমান সেবা অব্যাহত রয়েছে। তবে টোকিও নারিতা রুট এখনো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে যেকোনো সময় সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই যাত্রীদের বুকিংয়ের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থগিত বা ক্ষতিগ্রস্ত রুটের যাত্রীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিনামূল্যে তারিখ পরিবর্তন এবং সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুবিধা দিচ্ছে। যাত্রীরা বিমানের বিক্রয় কেন্দ্র, কল সেন্টার অথবা যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট ক্রয় করেছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।