শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও আগুন

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) গভীর রাতে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর কার্গো ভিলেজ এলাকায় এ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি কর্মকর্তা শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে রাত ১১টা ৩৮ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানতে তদন্তের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের পণ্য অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে এ ধরনের স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পণ্য নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এদিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে কার্গো ভিলেজের একটি অংশে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটকে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সেই অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে জানানো হয়।

তৎকালীন সময়ে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল, আগুনের কারণে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে বহু রপ্তানিমুখী ও আমদানিকৃত পণ্য নষ্ট হয়ে যায় এবং ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরের কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্গো এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Comments (0)
Add Comment