ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, আকাশপথ বন্ধ এবং যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। এ কারণে প্রয়োজন হলে দ্রুত এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি রাখতে এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বা ওই অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা নাগরিকদের বিমানবন্দর, বিমান সংস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে হঠাৎ করেই বিভিন্ন দেশের আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই সতর্কতা বাহরাইন, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের জন্য প্রযোজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরান অথবা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন দূতাবাস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট অভিযোগ করেন, ইরান পূর্ববর্তী সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। কুয়েত জানিয়েছে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলার একটি চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে দুটি পৃথক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে গাজা উপত্যকাতেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিলেও ইসরায়েল মধ্য ও উত্তর গাজায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইয়েমেন, লেবানন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক বিমান চলাচল, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো এবং বিভিন্ন দেশের সরকার।