সরকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের বিমান পরিবহন খাতের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, কার্গো পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২০ জুন) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানান। এর আগে তিনি ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সেখানে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি, অবশিষ্ট কাজ এবং উদ্বোধনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, থার্ড টার্মিনালের উদ্বোধন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। তিনি জানান, সম্প্রতি জাপানের বিমান অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী ঢাকা সফর করেছেন এবং প্রকল্পের প্রধান অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের বিষয়ে ইতিবাচক সমঝোতা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পের প্রধান জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশন ও নিপ্পন কোয়ে যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জাপানের রাষ্ট্রদূতও আশ্বাস দিয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
থার্ড টার্মিনাল চালুর আগে পরিচালনাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘রিকুয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ (আরএফপি) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে টোকিওতে জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওআরএটি) কার্যক্রম শুরু হবে, যা একটি নতুন বিমানবন্দর টার্মিনাল চালুর আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালে অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এই প্রকল্পের প্রধান অর্থায়নকারী।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের আয়তন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এটি বর্তমান দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড়। চালু হলে বছরে কোটি কোটি যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের নতুন যুগে প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।