ইরান সংঘাতের কারণে কয়েক মাস ধরে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান সংস্থাগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখন উপসাগরীয় এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট পরিচালনা প্রায় আগের অবস্থানে পৌঁছে গেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বিমান সংস্থাগুলোর মোট ফ্লাইট সংখ্যা বর্তমানে ২৭ ফেব্রুয়ারির, অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগের দিনের প্রায় ৮২ শতাংশে ফিরে এসেছে। এর মধ্যে গালফ এয়ার ও কুয়েত এয়ারওয়েজ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১০০ শতাংশেরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
অঞ্চলটির তিন বৃহৎ বিমান সংস্থা—এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ এবং ইতিহাদ এয়ারওয়েজ—ইতোমধ্যে যুদ্ধ-পূর্ব সক্ষমতার ৯০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেও কাতার এয়ারওয়েজ ও ইতিহাদের ফ্লাইট পরিচালনা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছিল। এমিরেটস তুলনামূলকভাবে বেশি ফ্লাইট সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল এবং এখনো দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং উত্তেজনা কমার ফলে উপসাগরীয় বিমান শিল্পের ভবিষ্যৎ অনেকটাই আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে অঞ্চলটির আকাশসীমা পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিমান সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার সুযোগ করে দেবে।
ইরান সংঘাত চলাকালে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে বহু ফ্লাইটকে রুট পরিবর্তন বা জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল। এতে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক বিমান সংস্থা ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
তবে পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করেছে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) এখনো অঞ্চলটিতে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সতর্কতা বহাল রেখেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের বৈশ্বিক পরিবহন ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। নতুন বিমানবন্দর, হোটেল, পর্যটন অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক আয়োজনের মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী যাত্রী আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আকাশপথ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে এসব দেশের অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে যুদ্ধের প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ফ্লাইট সূচি বিঘ্নিত হওয়া এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিমান সংস্থাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বিমান শিল্পের মুনাফা পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।