প্রায় এক বছর বিরতির পর আবারও জাপানের টোকিও (নারিতা) ও বাংলাদেশের ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে এই আন্তর্জাতিক রুটে পুনরায় যাত্রী পরিবহন শুরু করবে দেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটি। নতুন সূচি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একটি রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকাশিত ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, প্রতি সোমবার টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উভয় দিকেই ফ্লাইট ছাড়বে। এই রুটে আধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে, যা দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী বিমান হিসেবে পরিচিত।
ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, টোকিও থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে প্রায় ৭ ঘণ্টা এবং ঢাকা থেকে টোকিও যেতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময় লাগবে। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, শিক্ষা এবং প্রবাসী যাত্রীদের জন্য সরাসরি আকাশপথে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
টোকিও-ঢাকা রুটটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। সে সময় সপ্তাহে তিনটি রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো। তবে যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক বিবেচনায় পরবর্তীতে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এই রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই রুটে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। একই সঙ্গে জাপান থেকে বাংলাদেশে আসা পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্যও সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ আরও সহজ হবে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টোকিও (নারিতা)–ঢাকা রুটে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সই একমাত্র সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন। ফলে যাত্রীদের অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে ট্রানজিট না করেই সরাসরি দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণের সুযোগ মিলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি পেলে এই রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। সরাসরি আকাশ যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।