১ জুলাই থেকে কার্যকর ভিয়েতনামের নতুন ফ্লাইট বিধিমালা

ভিয়েতনামে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন ফ্লাইট বিধিমালা কার্যকর হতে যাচ্ছে।

ভিয়েতনামে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন ফ্লাইট বিধিমালা কার্যকর হতে যাচ্ছে। দেশটির সরকার প্রণীত ডিক্রি নং ২২২/২০২৬/এনডি-সিপি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। নতুন এই বিধিমালায় ফ্লাইট পরিচালনা, বিমানবন্দরের যৌথ ব্যবস্থাপনা, ফ্লাইট পারমিট প্রদান, সংশোধন ও বাতিলের ক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন ডিক্রির মূল লক্ষ্য হলো বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করা, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমান চলাচলের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। বিধিমালা অনুযায়ী, বিমানবন্দরে পরিচালিত সব ধরনের ফ্লাইটকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিএস) কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, নির্ধারিত ফ্লাইট পদ্ধতি, অপারেশনাল প্রোটোকল এবং নিরাপত্তা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

সরকার বলছে, বিমান চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও ব্যক্তির ওপর নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং পরিচালন সক্ষমতা বজায় রাখার দায়িত্ব থাকবে। পাশাপাশি জরুরি বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যেসব বিমানবন্দর বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত হয়, সেসব যৌথ বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নির্মাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান প্রতিরক্ষা ও বিমান বাহিনী কমান্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ফ্লাইট পদ্ধতি ও পরিচালন নির্দেশনা জারি করবে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিমানবন্দরগুলো নিজস্ব কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফ্লাইট নিয়মাবলী নির্ধারণ করবে।

ডিক্রিতে ফ্লাইট পারমিট প্রদান, সংশোধন এবং বাতিলের ক্ষমতাও স্পষ্টভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান, উচ্চপদস্থ নেতা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি বা বিশেষ রাষ্ট্রীয় মিশনে ব্যবহৃত ফ্লাইটের অনুমোদনের দায়িত্ব থাকবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার বিভাগের ওপর।

সামরিক ফ্লাইট, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, অস্ত্র পরিবহন এবং বিশেষ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের অনুমোদন দেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জেনারেল স্টাফের অপারেশনস বিভাগ। অন্যদিকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহৃত ফ্লাইটের অনুমোদন দেবে জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সাধারণ বেসামরিক ফ্লাইট, চার্টার ফ্লাইট এবং নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি চার্টার অপারেশনের লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্ব থাকবে ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ওপর। এছাড়া ছুটির দিন, সপ্তাহান্ত বা অফিস সময়ের বাইরে জরুরি, মানবিক, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কিংবা প্রযুক্তিগত কারণে পরিচালিত বিশেষ ফ্লাইটের অনুমোদন দিতে পারবে ভিয়েতনাম এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই বিধিমালা কার্যকর হলে ভিয়েতনামের বিমান চলাচল খাতে নিরাপত্তা, সমন্বয় এবং পরিচালন দক্ষতা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান আকাশপথ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক কাঠামো গড়ে উঠবে।

Comments (0)
Add Comment