ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া একটি লাগেজ দ্রুত উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ আনসারের দুই সদস্য। তাদের তৎপরতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দুবাই থেকে দেশে ফেরা এক প্রবাসী স্বস্তি ফিরে পান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের মূল্যবান লাগেজ ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে বিমানবন্দরের হেভি লাগেজ-০৩ এলাকায়। দুবাই থেকে দেশে ফেরার পর প্রবাসী মোহাম্মদ রুবায়েত মাতুব্বর লাগেজ সংগ্রহের সময় দেখতে পান, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাগ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কারণ ব্যাগটির ভেতরে ছিল প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত নথিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন উপহার ও সামগ্রী। লাগেজটি হারিয়ে যাওয়ায় তিনি দ্রুত দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের সহযোগিতা চান।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ আনসারের সদস্য আকরাম হোসেন ও ফয়েজ আহমেদ দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেন। তারা প্রথমে ব্যাগের বর্ণনা সংগ্রহ করেন এবং লাগেজে থাকা নাম ও ঠিকানার স্টিকারের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশে খোঁজ চালান। বিমানবন্দরের বিভিন্ন সারি, ট্রলি এলাকা এবং লাগেজ সংগ্রহস্থল সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করা হয়।
প্রায় ২০ মিনিটের নিবিড় অনুসন্ধানের পর অবশেষে বিমানবন্দরের রো-ডি এলাকায় ব্যাগটির সন্ধান মেলে। পরে তদন্ত করে জানা যায়, ভুলবশত অন্য এক প্রবাসী যাত্রীর ট্রলিতে ব্যাগটি চলে গিয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা হয়।
সব ধরনের যাচাই-বাছাই শেষে লাগেজটি অক্ষত অবস্থায় মোহাম্মদ রুবায়েত মাতুব্বরের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ ফিরে পেয়ে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ আনসারের সদস্যদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানান। তার ভাষায়, ব্যাগটির ভেতরে থাকা নথিপত্র ও উপহার হারিয়ে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো।
বাংলাদেশ আনসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাহিনীর মহাপরিচালক আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে দায়িত্বরত সদস্যরা জনগণ ও প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের নিরাপত্তা, সহায়তা এবং হারিয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধারসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে সদস্যদের সর্বদা সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া লাগেজ দ্রুত উদ্ধার এবং প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা শুধু আনসার সদস্যদের পেশাদারিত্বই নয়, যাত্রীসেবায় তাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এমন উদ্যোগ বিমানবন্দরে যাত্রীদের আস্থা আরও বাড়াবে এবং প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও সেবাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।