২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে বিমানযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভিয়েতনামের বিমানবন্দরগুলোতে চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এবং চেক-ইন ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে বিমানবন্দরে আগেভাগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় থাকা ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স, প্যাসিফিক এয়ারলাইন্স ও ভাসকো যৌথভাবে এ নির্দেশনা দিয়েছে।
এয়ারলাইন্স গ্রুপের কর্মকর্তাদের মতে, গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিমান ভ্রমণের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে ব্যস্ত সময়ে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এ কারণে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের উড্ডয়নের কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে গভীর রাত বা ভোরবেলার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রীদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ এসব সময়ে যাত্রীদের ভিড় বেশি থাকায় চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় সব ভ্রমণ নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স গ্রুপ অনলাইন চেক-ইন ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। যাত্রীরা ফ্লাইট ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, ভিএনইআইডি অ্যাপ, কল সেন্টার অথবা বিমানবন্দরের স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক ব্যবহার করে চেক-ইন সম্পন্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে, যা বিশেষ করে যেসব যাত্রীর চেকড ব্যাগেজ নেই তাদের অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।
গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত চাহিদা মোকাবিলায় ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স গ্রুপ তাদের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা সক্ষমতাও বাড়িয়েছে। এখন থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লাখ আসন এবং ২৮ হাজার ৩০০টির বেশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ এবং আসন সংখ্যা ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে দেশের বিমানবন্দরগুলো প্রায় ৫ কোটি ৪৬ লাখ যাত্রীকে সেবা দিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পুনরুদ্ধার এবং অভ্যন্তরীণ পর্যটনের চাহিদা বৃদ্ধিই এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম তান সন নাত বিমানবন্দর গ্রীষ্মকালীন ব্যস্ত মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৭২০ থেকে ৭৩০টি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে। যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সেখানে নতুন টার্মিনাল চালু, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং যানবাহন ও যাত্রী প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের বাড়তি চাপ সফলভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।