বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস এমিরেটস তাদের ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কেবিন আধুনিকায়ন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১০০টি উড়োজাহাজের কেবিন সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৭টি এয়ারবাস A380 এবং ৫৩টি বোয়িং 777। সবগুলো উড়োজাহাজই দুবাইয়ে এমিরেটসের নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং সুবিধাকেন্দ্রে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি উড়োজাহাজের ফার্স্ট, বিজনেস ও ইকোনমি ক্লাসের কেবিন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি এমিরেটসের জনপ্রিয় প্রিমিয়াম ইকোনমি কেবিনও যুক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০টির বেশি প্রিমিয়াম ইকোনমি আসন সংযোজন করা হয়েছে, যার ফলে আরও বেশি আন্তর্জাতিক রুটে এই সেবা চালু করতে পেরেছে বিমান সংস্থাটি।
এমিরেটস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ২০টি এয়ারবাস A380 ও বোয়িং 777 আধুনিকায়নের কাজ শেষ হবে। এর মাধ্যমে ২১৯টি উড়োজাহাজ নিয়ে গঠিত পুরো প্রকল্পের অর্ধেকেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হবে।
এমিরেটস এয়ারলাইন্সের প্রেসিডেন্ট স্যার টিম ক্লার্ক বলেন, “প্রতিটি শ্রেণির যাত্রীকে সর্বোচ্চ মানের সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকেই আমরা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। মাত্র ৪৪ মাসে ১০০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের পূর্ণাঙ্গ কেবিন আধুনিকায়ন সম্পন্ন করা আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।”
তিনি আরও জানান, পুরো প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে এমিরেটসের নিজস্ব প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ কারিগরি কাজ এবং উচ্চমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রয়োজন হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিটি বিমানকে আবারও বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
কেবিন আধুনিকায়নের পাশাপাশি যাত্রীসেবা উন্নয়নে আরও বড় বিনিয়োগ করছে এমিরেটস। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে নতুন প্রজন্মের এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ নির্মাণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি লাউঞ্জে প্রায় ৫ কোটি দিরহাম (প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সেখানে আধুনিক ডাইনিং স্পেস, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং আরও আরামদায়ক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হবে।
সম্প্রতি এমিরেটস ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন দিরহাম (৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) নিট মুনাফা অর্জনের ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক মুনাফা। সংস্থাটির মতে, বহর আধুনিকায়ন, উন্নত কেবিন সেবা এবং যাত্রী অভিজ্ঞতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগই এই সাফল্যের অন্যতম কারণ।
এমিরেটসের এই বৃহৎ আধুনিকায়ন কর্মসূচি বিশ্ব বিমান শিল্পে যাত্রীসেবার নতুন মানদণ্ড স্থাপনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশ্লেষকরা।