আবহা বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদিতে টানা ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিমান চলাচলে নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে।

সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিমান চলাচলে নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিমানবন্দর থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন সতর্কতা জারি করেছে এবং আরও হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদগামী চারটি, জেদ্দাগামী চারটি, দুবাইগামী দুটি এবং শারজাহগামী একটি ফ্লাইট রয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবারও একই বিমানবন্দর থেকে অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সৌদিয়ার ছয়টি এবং ফ্লাইআদেলের দুটি জেদ্দাগামী ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাইগামী এফজেড৮১৫এফজেড৮১১ ফ্লাইট এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার শারজাহগামী জি৯১৯৫ ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। ফলে শত শত যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।

হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ। কানাডা তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ পরামর্শ হালনাগাদ করে পুরো সৌদি আরবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে আসির প্রদেশের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে যুক্তরাজ্যও সৌদি আরব-ইয়েমেন সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে। সীমান্ত থেকে ১০ থেকে ৮০ কিলোমিটার এলাকার ক্ষেত্রেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের মতে, হুথি বিদ্রোহীরা অতীতেও সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের জন্য তাদের লেভেল-৩ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি বহাল রেখেছে। কিছু এলাকায় এখনো লেভেল-৪ সতর্কতা কার্যকর রয়েছে, যেখানে নাগরিকদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অতীতেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে আরও ফ্লাইট বাতিল, রুট পরিবর্তন এবং ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Comments (0)
Add Comment