মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনাতেও স্বাভাবিক এমিরেটস-ইতিহাদের ফ্লাইট

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রধান বিমান সংস্থাগুলো এখনো তাদের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত দিনের সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রধান বিমান সংস্থাগুলো এখনো তাদের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করছে। এমিরেটস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই এবং এয়ার অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, তাদের বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে কোনো সামগ্রিক ফ্লাইট স্থগিতাদেশ নেই। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি গন্তব্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি বিদেশি বিমান সংস্থা দুবাই ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট স্থগিত রাখার মেয়াদ আগস্ট, সেপ্টেম্বর এমনকি অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ)-এর নিরাপত্তা নির্দেশনার আলোকে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্রিসের এজিয়ান এয়ারলাইন্স ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুবাই ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার কানাডা, এয়ারবাল্টিক, আইটিএ এয়ারওয়েজ এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুবাই রুটে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। লুফথানসা ও সুইস ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুবাই ফ্লাইট পরিচালনা করবে না। একইভাবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ অক্টোবরের শেষ দিকে ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে।

এদিকে কেএলএম ২৩ আগস্ট পর্যন্ত আমস্টারডাম-দুবাই রুটে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। ক্যাথে প্যাসিফিক হংকং-দুবাই রুটে দৈনিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর সময় ১ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে।

অপরদিকে আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে। এমিরেটস তাদের নেটওয়ার্কজুড়ে বড় ধরনের নতুন কোনো ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়নি। ফ্লাইদুবাইও অধিকাংশ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে, যদিও কিছু রুটে বিকল্প আকাশপথ ব্যবহারের কারণে যাত্রাসময় বেড়েছে। যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত চার ঘণ্টা আগে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

ইতিহাদ এয়ারওয়েজ সম্প্রতি বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় আবুধাবি-বাহরাইন রুটের দুটি ফ্লাইট বাতিল করেছিল। এছাড়া প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত কারণে টরন্টো, লন্ডন, ওয়াশিংটন ও টোকিওর কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হলেও তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এয়ার অ্যারাবিয়া এখনো শারজাহ-আভা (সৌদি আরব) রুটে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। তবে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইএএসএ ১৪ জুলাই উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারে সতর্কতা জারি করায় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো বেশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তবে ইউএইর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিমান চলাচল চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটির বিমানবন্দরগুলো খোলা থাকলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার নিরাপত্তা নীতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে নিজ নিজ বিমান সংস্থার সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment