শাহজালালের উড্ডয়নপথে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অবৈধ বহুতল ভবন

বিমানবন্দরের রানওয়ের টেক-অফ ও ল্যান্ডিং করিডোরে উচ্চতা-সীমা লঙ্ঘন করে নির্মিত শত শত বহুতল ভবন এখন বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তেজগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়ের টেক-অফ ও ল্যান্ডিং করিডোরে উচ্চতা-সীমা লঙ্ঘন করে নির্মিত শত শত বহুতল ভবন এখন বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দীর্ঘদিন ধরে এসব ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) চিঠি দিলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ঝুঁকি থেকেই গেছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বিমানবন্দর এলাকার উচ্চতা-সংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬৪০টিরও বেশি ভবন চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে প্রস্তুত করা নথিতে অন্তত ৩২৫টি ভবনের তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে ২০২টি তেজগাঁও বিমানবন্দরের এবং ১২৩টি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুরক্ষিত আকাশসীমার ভেতরে অবস্থিত। এসব ভবনের মধ্যে রয়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, সরকারি স্থাপনা, হাসপাতাল, হোটেল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। দুর্ঘটনার আগের কয়েক মাসেও বেবিচক রাজউককে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অন্তত ছয়টি চিঠিতে ১৭টি অবৈধ স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়।

নথিতে দেখা যায়, কোথাও নিষিদ্ধ রেড জোনে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, আবার কোথাও অনুমোদিত সীমার চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ ফুট, এমনকি ৭০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত বেশি উচ্চতার ভবন গড়ে উঠেছে। উত্তরার বাউনিয়া ও উত্তরা-১২ এলাকায় একাধিক ভবন নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে, যা বিমান ওঠানামার সময় বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নকশা অনুমোদনের সময় বেবিচকের অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছিল। তবে অনেক ভবন মালিক অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, তদারকি ও আইন প্রয়োগে ঘাটতি ছিল।

বেবিচক বলছে, অবৈধ ভবনের কারণে নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ‘অবস্ট্যাকল ডাটাবেস’ হালনাগাদ করতেও সমস্যা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজউক ও বেবিচক যৌথ জরিপ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনুমোদনবহির্ভূত অংশ অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের আশপাশে উচ্চতা-সীমা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

Comments (0)
Add Comment