একটি দেশের চেয়েও বড় বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বলতে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কথা ভাবেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বলতে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কথা ভাবেন। কিন্তু আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরটি আসলে সৌদি আরবে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (King Fahd International Airport)। বিশাল এই বিমানবন্দরটির আয়তন প্রায় ৭৭৬ বর্গকিলোমিটার, যা বিশ্বের অনেক স্বাধীন দেশের মোট আয়তনের চেয়েও বড়। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে বিমানবন্দরটি বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃত।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি ১৯৯৯ সালে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এরপর থেকে এটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হয় এখান থেকে।

৭৭৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিমানবন্দরটি যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (প্রায় ১৩৫ বর্গকিলোমিটার)-এর তুলনায় কয়েক গুণ বড়। এমনকি এর আয়তন অনেক ছোট দেশের চেয়েও বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাহরাইন রাষ্ট্রের মোট আয়তন প্রায় ৭৬৫ বর্গকিলোমিটার, যা কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেয়েও সামান্য ছোট।

তবে এত বিশাল আয়তনের পুরো অংশ বিমান পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয় না। বিমানবন্দরের একটি ছোট অংশে যাত্রী টার্মিনাল, রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো সুবিধা এবং অন্যান্য অপারেশনাল অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি বিশাল এলাকা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা অঞ্চল এবং সংরক্ষিত ভূমি হিসেবে রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দরটিতে অত্যাধুনিক যাত্রীসেবা, আন্তর্জাতিক মানের কার্গো সুবিধা, একাধিক পার্কিং এলাকা এবং আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা রয়েছে। এটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের শিল্পাঞ্চল ও জ্বালানি খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। দাম্মাম, আল খোবার ও ধাহরানসহ আশপাশের শহরের লাখো মানুষ এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন।

বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দরগুলোর আয়তন নিয়ে আলোচনা হলে অনেকেই যাত্রীসংখ্যা বা ফ্লাইট পরিচালনার দিকটি বিবেচনা করেন। তবে আয়তনের দিক থেকে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর এটি নয়, তবুও বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সক্ষমতার কারণে এটি বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সৌদি আরবের বিমান চলাচল আরও সম্প্রসারিত হলে এই বিশাল সংরক্ষিত এলাকা নতুন টার্মিনাল, অতিরিক্ত রানওয়ে, কার্গো কমপ্লেক্স এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। এ কারণেই কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুধু বর্তমানের নয়, ভবিষ্যতের বিমান চলাচলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Comments (0)
Add Comment