যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৪১৯ জন ওমরাহ যাত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় জেদ্দাগামী বিজি-২৩৫ ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে না পেরে রানওয়ে থেকে ফিরে আসে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট ঘণ্টা পার হলেও উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরেই অবস্থান করছিল এবং যাত্রীরা অপেক্ষায় ছিলেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে সিলেট থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। উড্ডয়নের প্রস্তুতি শেষে বিমানটি রানওয়েতে পৌঁছালে পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয় এবং নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল না করে ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু করা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শরীফুল আলম জানান, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়েছে। স্থানীয় প্রকৌশলীরা ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ করছেন। প্রয়োজনে ঢাকাসহ অন্য স্থান থেকে অতিরিক্ত প্রকৌশলী আনার ব্যবস্থাও করা হবে। তবে কখন ফ্লাইটটি ছাড়তে পারবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেক যাত্রী ছিলেন বয়স্ক, যারা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, বিশ্রামের অভাব এবং অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা তেরাব আলী খান অভিযোগ করেন, যদি উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলে উড্ডয়নের আগে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষায় তা ধরা পড়েনি কেন। তার দাবি, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে অনেক প্রবীণ যাত্রীর পা ফুলে গেছে এবং তারা চরম কষ্টে রয়েছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, একসঙ্গে ৪১৯ জন যাত্রীর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তবে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদেরও হিমশিম খেতে হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে কয়েক দফা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কা দেখা দিলেও উড়োজাহাজকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে সমাধান হওয়ার পরই ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। তবে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত ফ্লাইটটির নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।