মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আকাশপথে বিধিনিষেধ এবং পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (DXB) ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রেখেছে বিশ্বের অন্তত ১৬টি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। যদিও দুবাই বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাই তাদের অধিকাংশ রুটে ফ্লাইট চালিয়ে যাচ্ছে, তবুও অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এখনো দুবাইয়ে ফ্লাইট পুনরায় চালু করেনি।
সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এয়ার কানাডা, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, লুফথানসা গ্রুপ, এয়ার অ্যাস্টানা, এজিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ারবাল্টিক, ইউরোউইংস, কোরিয়ান এয়ার, ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স, ভার্জিন আটলান্টিক, উইজ এয়ার এবং ফিনএয়ার দুবাই রুটে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে বা সীমিত করেছে।
এয়ার ফ্রান্স ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দুবাইগামী ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। কেএলএম ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আর লুফথানসা গ্রুপের লুফথানসা, সুইস, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্স ও ব্রাসেলস এয়ারলাইন্স অন্তত ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুবাইয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না। অন্যদিকে এয়ার কানাডা, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, ইউরোউইংস ও এয়ারবাল্টিক অক্টোবরের শেষভাগ পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে।
ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স ২ অক্টোবর পর্যন্ত দুবাই রুটে ফ্লাইট বাতিল করেছে। কোরিয়ান এয়ার অনির্দিষ্টকালের জন্য ইনচন-দুবাই রুট স্থগিত রেখেছে। ভার্জিন আটলান্টিক জানিয়েছে, তারা ২০২৭ সালের আগে দুবাই রুটে ফিরবে না। একইভাবে উইজ এয়ারও অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ে কোনো ফ্লাইট পরিচালনার সূচি প্রকাশ করেনি।
বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আকাশপথে চলাচলের সীমাবদ্ধতা এবং পরিচালনাগত অনিশ্চয়তার কারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক এয়ারলাইন যাত্রীদের জন্য বিনা খরচে পুনরায় বুকিং, ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন অথবা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুযোগ দিচ্ছে।
এদিকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে যাত্রীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। তাই ভ্রমণকারীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো, অনলাইনে চেক-ইন সম্পন্ন করা এবং বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এই ধরনের পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে দুবাইগামী বা দুবাই হয়ে অন্য দেশে ভ্রমণকারী যাত্রীদের সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।