দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়াতে এবং ভবিষ্যৎ বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী এক দশকে ২০ থেকে ৩০টি নতুন ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ড্যাং নক হোয়া জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নতুন ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ কেনার একটি আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ প্রস্তাব তৈরি করা হবে। প্রস্তাবটি এয়ারবাস, বোয়িং এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমান লিজিং কোম্পানিগুলোর কাছে উপস্থাপন করা হবে। সংস্থাটি সরাসরি কেনার পাশাপাশি ড্রাই লিজ ও সাব-লিজ—সব ধরনের অর্থায়নের বিকল্প বিবেচনায় রাখছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের ওয়াইডবডি বহরের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বিমান সংস্থাটির মোট বহরে রয়েছে প্রায় ১০৫টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ৩০টির কিছু বেশি ওয়াইডবডি বিমান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এয়ারবাস এ৩৫০ এবং বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার।
বিমান সংস্থাটি ২০৩৫ সালের মধ্যে ওয়াইডবডি বহর ৫০টিরও বেশি এবং ন্যারোবডি বহর প্রায় ১০০টি উড়োজাহাজে উন্নীত করতে চায়। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দশ বছরে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের মোট বহরের সংখ্যা ১৫০টিরও বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় অন্তত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। বৈশ্বিক উড়োজাহাজ সংকট এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘ ডেলিভারি ব্যাকলগের কারণে বিমান সংস্থাটি আগেভাগেই অর্ডার নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজ সরবরাহ পাওয়া যায়।
ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে ন্যারোবডি বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ৫০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এসব উড়োজাহাজ আগামী দশকের শুরুতে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
চেয়ারম্যান ড্যাং নক হোয়া বলেন, নতুন প্রজন্মের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ সংস্থাকে আরও দীর্ঘ দূরত্বে উড়তে, বেশি যাত্রী পরিবহন করতে এবং আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন উড়োজাহাজগুলো হ্যানয়, হো চি মিন সিটি এবং ভবিষ্যতের লং থান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হবে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এত বড় বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভজনকতা বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।