চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিমান ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অধীন সব হোটেল ও মোটেলে জুলাইযোদ্ধাদের জন্য ৩৬ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আয়োজিত জুলাইযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
আফরোজা খানম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহত যোদ্ধারা বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি অনন্য অধ্যায়ের সাহসী অংশীদার। তাদের আত্মত্যাগকে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না; তাদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
শহিদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানানো এবং আহত জুলাইযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক ও দায়িত্বের অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য তাদের কল্যাণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
বিমান ভাড়ায় ছাড়ের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে জুলাইযোদ্ধাদের জন্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ‘৩৬ জুলাই’ স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অধীন হোটেল ও মোটেলগুলোতে জুলাইযোদ্ধাদের জন্য ৩৬ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে জুলাইযোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জাতীয় ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে পর্যটন খাতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনবান্ধব, নিরাপদ, টেকসই এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন শহিদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, শহিদ আফিকুল ইসলাম সাদের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম, শহিদ জোবায়ের আহমেদের স্ত্রী মোছা. মারজিনা আক্তার এবং জুলাইযোদ্ধা সানজিদা আহমেদ তন্বীসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানের প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে শহিদ জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাইযোদ্ধাদের হাতে প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুলাইযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননাও দেওয়া হয়।