বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দিলে সংশ্লিষ্টদের পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার ৫ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিমানমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিমানবন্দরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও কর্মী চলাচল করেন। ফলে যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরে কোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের পারস্পরিক সমন্বয় এবং দায়িত্ব পালনের ওপর। তাই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শিথিলতা, গাফিলতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
মহড়ায় একটি উড়োজাহাজে অগ্নিকাণ্ডের কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এতে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী একটি উড়োজাহাজে ৯৮ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু রয়েছেন। অবতরণের আগে উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, মহড়ায় তা অনুশীলন করা হয়।
মহড়ায় বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, উদ্ধারকারী দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা অংশ নেন। তারা সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ, উড়োজাহাজ থেকে যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশীলন করেন।
মহড়ার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সমন্বয়ের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। মহড়ায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংস্থার কার্যকর সমন্বয়ের প্রশংসা করেন বিমানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে শতভাগ নিরাপত্তা এবং বিশ্বমানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিত নজরদারি করছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা আরও উন্নত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের যথাযথভাবে উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করা হবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে সরকার কঠোর অবস্থানেই থাকবে।