শাহজালালে ‘লাগেজ যুদ্ধ’, ট্রলি না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে নামার পরও যেন শেষ হচ্ছে না যাত্রীদের ভোগান্তি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে নামার পরও যেন শেষ হচ্ছে না যাত্রীদের ভোগান্তি। ইমিগ্রেশন ও লাগেজ সংগ্রহের পর এবার শুরু হচ্ছে ট্রলি পাওয়ার আরেক ‘যুদ্ধ’। পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকা, লাগেজ নিয়ে টার্মিনালের বাইরে বের হওয়ার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা।

যাত্রীদের অভিযোগ, কনভেয়ার বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহের পর তা বহনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রলি সহজে পাওয়া যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে ট্রলি না পেয়ে ভারী লাগেজ হাতে বা মাথায় তুলে টার্মিনালের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

বিশেষ করে টার্মিনাল-১ ও ২-এর ক্যানোপি কার পার্কিং এলাকায় যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ক্যানোপি এলাকার কিছু অংশ গ্রিল দিয়ে আটকে দেওয়ায় ট্রলিতে করে লাগেজ নিয়ে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই ভারী ব্যাগ মাথায় বা হাতে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন।

সৌদি আরব থেকে প্রায় তিন বছর পর দুই মাসের ছুটিতে দেশে ফিরেছেন ফেরদৌস আলম। তিনি জানান, ইমিগ্রেশন শেষ করে ৭ নম্বর কনভেয়ার বেল্টের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর লাগেজ পান। কিন্তু লাগেজ বহনের জন্য ট্রলি না থাকায় নতুন করে সমস্যায় পড়েন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রলি পেলেও বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় অব্যবস্থাপনার কারণে তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অপর এক প্রবাসী যাত্রী শেফালী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লাগেজ পাওয়া এবং ট্রলি সংগ্রহ করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে যায়। শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো এমন হয়রানির অভিজ্ঞতা অন্য বিমানবন্দরে খুব কমই দেখা যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, শাহজালালে প্রতিদিন প্রায় ৩৪টি এয়ারলাইনসের ১৫৯ থেকে ২০০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেন। বছরে ৮০ লাখ যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকলেও গত বছর এখানে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, যাত্রীচাপের তুলনায় বিমানবন্দরে স্থানস্বল্পতা রয়েছে। মাত্র আটটি কনভেয়ার বেল্ট থাকায় একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট অবতরণ করলে ব্যাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়। বর্তমানে বিমানবন্দরে মোট ৩ হাজার ৯২০টি ট্রলি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিতভাবে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০টি ট্রলি ব্যবহৃত হয়।

এদিকে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ৫০০টি নতুন ট্রলি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মেশিন টুলস কারখানা থেকে কেনা এসব ট্রলির মধ্যে চলতি মাসেই ২০০টি বিমানবন্দরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে আরও ৩০০টি ট্রলি সরবরাহ করা হবে।

কর্তৃপক্ষের আশা, নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে যাত্রী ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় চাপ কমবে। এর ফলে ট্রলি সংকটসহ বিমানবন্দরের বর্তমান নানা অব্যবস্থাপনা ও যাত্রীভোগান্তিরও স্থায়ী সমাধান হবে।

Comments (0)
Add Comment