মাঝ আকাশে ইঞ্জিনের ত্রুটি, জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের

আবু ধাবিগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে ইঞ্জিনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটিকে ভারতের কোচি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে।

আবু ধাবিগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে ইঞ্জিনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটিকে ভারতের কোচি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়নরত অবস্থায় বিমানের একটি ইঞ্জিনে তেলের মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ার পর পাইলটরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন। পরে ইঞ্জিন-১ বন্ধ করে বিমানটি কোচিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও এএনআই সূত্রে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর আবু ধাবির উদ্দেশে কোচি থেকে উড্ডয়ন করে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানটি। উড্ডয়নের প্রায় ৫০ মিনিট পর পাইলটরা লক্ষ্য করেন, ইঞ্জিন-১-এর অয়েলের মাত্রা দ্রুত কমছে। কিছুক্ষণের মধ্যে তেলের চাপ বিপজ্জনক পর্যায় বা রেড জোনে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ক্রুরা প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন করে ফ্লাইটটি বাতিল করে কোচিতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

পাইলটরা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করেন। কমান্ডার মুম্বাই রেডিওর সঙ্গে হাই ফ্রিকোয়েন্সিতে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিমানের কোচিতে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি জানান। এরপর একটি ইঞ্জিন বন্ধ রেখেই বিমানটি নিরাপদে কোচি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় এবং তুলনামূলক বেশি ওজনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ অবতরণ করানো পাইলটদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রশিক্ষিত ক্রু পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিমানে কতজন যাত্রী ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অবতরণের পর যাত্রীদের ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস কিংবা ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিমানটির কারিগরি ত্রুটির কারণ জানতে পরবর্তী সময়ে পরিদর্শন ও পরীক্ষা করা হতে পারে।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বরও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি ফ্লাইটে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বারাণসী থেকে দিল্লিগামী ওই ফ্লাইটে কার্গো বিভাগে ধোঁয়ার অ্যালার্ম সক্রিয় হলে বিমানটিকে লখনৌ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। অবতরণের পর ফায়ার ব্রিগেড ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা বিমানটি পরীক্ষা করেন।

এ ছাড়া সম্প্রতি গোয়া থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটেও ইঞ্জিনে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় সমস্যাটি শনাক্ত হওয়ার পর বিমানটি গোয়ার মনোহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পরপর কয়েকটি ঘটনায় ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহনে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটি শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উড়োজাহাজের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি আগেভাগে শনাক্ত করতে আরও কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

Comments (0)
Add Comment