জাপানের দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ঝড়টির প্রভাবে দেশটির বিমান ও রেল যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। সোমবার জাপান এয়ারলাইনস (জেএএল) ও অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) মিলিয়ে ২৬০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, টাইফুন দুজুয়ান টোকিওসহ কান্টো অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসায় ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে ইজু দ্বীপপুঞ্জ ও কান্টো অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে টাইফুনটি হাচিজোজিমা দ্বীপের প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থান করছিল। তখন ঝড়টির কেন্দ্রে সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার। দমকা বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
টাইফুনের প্রভাবে ইজু ও কান্টো অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ইজু ওশিমায় ২৪ ঘণ্টায় ৫৬৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কান্টো ও ইজু অঞ্চলে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। জাপান এয়ারলাইনস ও অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন এসেছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিমান চলাচলে বিঘ্নের মাত্রা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টাইফুনের কারণে টোকিও গেম শোর শেষ দিনের কার্যক্রমও বাতিল করা হয়েছে। পাঁচ দিনের এই আয়োজন এক দিন কমিয়ে চার দিনে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগেও প্রভাব পড়েছে। চিবা, ইবারাকি ও পশ্চিম টোকিওর কয়েকটি রুটে সোমবার আংশিক অথবা পুরো দিনের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের পাশাপাশি জাপানের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইজু দ্বীপপুঞ্জের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ স্তরের ভূমিধস সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থা স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার এবং সর্বশেষ আবহাওয়া ও দুর্যোগসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। টাইফুনের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে বিমান ও রেল যোগাযোগের পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হতে পারে।