জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে মদিনা থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে মদিনা থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মদিনা থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ফ্লাইটে থাকা ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত সময়ে জমজমের পানি হাতে না পাওয়ায় সাময়িক ভোগান্তিতে পড়েন। জমজমের পানি সাধারণত ওমরাহ ও হজ পালন শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জমজমের পানি বহনকারী কন্টেইনার অফলোডিং এবং পরবর্তী পরিচালনাগত কার্যক্রমে গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ে ব্যাগেজ বেল্টে পানি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের একটি অংশকে জমজমের পানি পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাত্রীদের সাময়িক দুর্ভোগ কমাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিজস্ব সংরক্ষিত মজুত থেকে জমজমের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে অন্য কন্টেইনারটি শনাক্ত করার কাজ শুরু করা হয়। পরে কন্টেইনারটি শনাক্ত হলে সেখান থেকেও জমজমের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান এবং ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সময়মতো ব্যাগেজ ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের জন্য জমজমের পানি সরবরাহের বিষয়টি সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ ধরনের বিলম্বের কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ তদারকি ও নজরদারি জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কার্যক্রম আরও সমন্বিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাময়িক এই বিলম্বের ঘটনায় যাত্রীদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

 

Comments (0)
Add Comment