শাহজালালে স্বর্ণের বারসহ বিমানের কর্মী ও যাত্রী আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের বারসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মী ও এক যাত্রীকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের বারসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মী ও এক যাত্রীকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা। শুক্রবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আটক বিমানকর্মীর নাম ওবায়দুর রহমান। অপর ব্যক্তি একজন যাত্রী হলেও তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানকর্মী ওবায়দুর রহমানের দেহ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই যাত্রীকে আটক করা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিমানবন্দর এভসেকের সহায়তায় এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ারপোর্ট ইউনিটের কর্মকর্তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মী ওবায়দুর রহমানের দেহ তল্লাশি করেন।

তল্লাশির সময় তার শার্টের পকেট এবং কোমরের বেল্ট থেকে টিস্যুতে মোড়ানো নয়টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১ হাজার ৪৯ দশমিক ৪০ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ০৫ কেজি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

স্বর্ণের বার উদ্ধারের পর বিমানবন্দর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুর রহমানের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ওই স্বর্ণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও একজনকে শনাক্ত করেন। পরে ওই যাত্রীকে আটক করা হয়।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস, কীভাবে তা বিমানবন্দরে প্রবেশ করেছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো চক্রের তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতে কাস্টমস, এভসেক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন-২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের আওতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ জব্দ করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দরে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments (0)
Add Comment