ককপিটে হামলা, ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে জরুরি অবতরণ

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ককপিটের ভেতরে হামলার ঘটনায় বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ককপিটের ভেতরে হামলার ঘটনায় বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনায় ক্যাপ্টেন আহত হন। তবে যাত্রী, ক্রু ও অন্য পাইলটদের দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। বিমানটি দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে যাচ্ছিল। আকাশে থাকা অবস্থায় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহ-পাইলটের হামলায় ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হন। রক্তক্ষরণ হলেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু মিলে সন্দেহভাজন সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। অন্য পাইলটরা পরিস্থিতি সামলে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিয়ে যান।

একজন যাত্রী জানান, বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে থাকায় অনেক যাত্রী মনে করেছিলেন, তারা হয়তো আর বাঁচবেন না। আরেক যাত্রীসহ কয়েকজন মিলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ককপিট থেকে বের করে আনতে সহায়তা করেন। একজন দন্তচিকিৎসক আহত ক্যাপ্টেনকে প্রাথমিক চিকিৎসাও দেন।

তাবুকে নিরাপদে অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন ও সহ-পাইলটকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরে ফ্লাইদুবাই যাত্রীদের ইসরায়েলে পৌঁছে দিতে একটি বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করে। উদ্ধারকারী বিমানটি যাত্রীদের নিয়ে তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আহত এক যাত্রীকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেনকে হামলার অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ওমানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ফ্লাইট ক্রুদের নিরাপত্তা ও নিয়োগসংক্রান্ত যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ককপিটের ভেতর থেকে কোনো ব্যক্তি হামলা চালালে তা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত বস্তু বা অস্ত্রের উৎস এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

ফ্লাইদুবাই ঘটনাটির পর ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে কয়েকটি ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে হামলার কারণ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।

Comments (0)
Add Comment