নভেম্বরে আন্তর্জাতিক হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

নভেম্বরের শুরুতেই কক্সবাজার আঞ্চলিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

নভেম্বরের শুরুতেই কক্সবাজার আঞ্চলিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাত আরও সম্প্রসারিত হবে। পর্যটকদের সরাসরি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হলে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি দেশের বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কক্সবাজারে যাতায়াতও সহজ হতে পারে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে বা জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ। সরকার এই অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য আধুনিক, টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশকে একটি পর্যটনকেন্দ্রিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে ভ্রমণ করেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কার্যক্রম শুরু হলে পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়। টেকসই পর্যটন, উদ্ভাবন, সেবার মান, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে দেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টলও স্থাপন করা হয়। এসব স্টলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য, কারুশিল্প, বস্ত্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের তথ্য প্রদর্শন করা হয়।

এ ছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে স্টলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা দেশের বিভিন্ন পর্যটনস্থল সম্পর্কে আধুনিক ও আকর্ষণীয় উপায়ে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পান।

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Comments (0)
Add Comment