শাহজালালে জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার সোনা

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার উদ্ধারের ঘটনায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার উদ্ধারের ঘটনায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ৯ দশমিক ৩৪ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত দুই বিমানকর্মীর রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান। এদিন তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। তবে শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট রানওয়েতে অবস্থান করছিল। ফ্লাইটটির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি কর্মকর্তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদের তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে দুই কর্মীর পরিহিত জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় সোনার বারগুলো পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা তাদের কাছ থেকে মোট ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করেন। প্রতিটি বারের ওজন ছিল প্রায় ১১৭ গ্রাম। সবগুলো বার মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

ঘটনার পর উদ্ধার করা সোনা জব্দ করা হয় এবং দুই বিমানকর্মীকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। গত রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহানী ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার তদন্তে সোনাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার নির্দেশে বা কার কাছে এগুলো পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য চক্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তদন্ত সংস্থা।

Comments (0)
Add Comment