ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং বিমানবন্দরগামী যাত্রীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে বিমানবন্দর সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে যানজট। ফলে কর্মস্থল, বাসা কিংবা অন্যান্য গন্তব্যে যাওয়ার পথে আটকে পড়েন অসংখ্য মানুষ।
বিশেষ করে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। বিভিন্ন ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া যাত্রীদেরও যানজটে আটকে থাকতে হয়। নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
যানজটে আটকে থাকা গণপরিবহনের অনেক যাত্রী পরে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হন। এতে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় যাত্রীদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হয়।
বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. আবু সাঈদ জানান, দুপুর থেকে শ্রমিকেরা বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এ কারণে বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে কেন্দ্র করে এই অবরোধের ফলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও যানবাহন চলাচল করে। তাই এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে আশপাশের এলাকাতেও।
এদিকে, অবরোধের কারণে ফ্লাইটের যাত্রীদের সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে ফ্লাইট ধরার কথা, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে শ্রমিকদের অবরোধ কখন প্রত্যাহার করা হবে, তাঁদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত এসেছে কি না এবং সড়কে যান চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের এই কর্মসূচিতে একদিকে তাঁদের দাবি সামনে এসেছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জনদুর্ভোগ।