ছারপোকার উপদ্রবে বাতিল কোয়ান্টাসের ফ্লাইট

ছারপোকার উপদ্রবের অভিযোগে ইতালি থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী একটি ফ্লাইট বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ।

ছারপোকার উপদ্রবের অভিযোগে ইতালি থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী একটি ফ্লাইট বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ। গত শনিবার রোম থেকে পার্থগামী ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। এতে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উড়োজাহাজের কয়েকটি আসনে ছারপোকার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর সেটি পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের একটি ফ্লাইটে যাত্রীরা ছারপোকার কামড়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উড়োজাহাজটির পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর পার্থ থেকে রোমগামী কিউএফ৫ ফ্লাইটের ইকোনমি শ্রেণির কয়েকজন যাত্রী ছারপোকার উপদ্রবের অভিযোগ করেন। তাঁদের একজন হেইলি ব্যাগনল নাইন নিউজকে জানান, উড়োজাহাজের ভেতরে ছারপোকাগুলো যাত্রীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, পোশাক এবং বিমান সংস্থার সরবরাহ করা কম্বলের ওপর চলাচল করছিল। এমনকি জানালার পাশেও পোকাগুলো দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোয়ান্টাস জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। উড়োজাহাজের ইকোনমি শ্রেণির কয়েকটি আসনে সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর সেটি ভালোভাবে পরিষ্কার করার জন্য প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণ দলের প্রয়োজনীয় সময় নিশ্চিত করতে শনিবারের রোম-পার্থ ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রীদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান সংস্থাটি।

কোয়ান্টাস আরও জানিয়েছে, তাদের উড়োজাহাজের কেবিন নিয়মিতভাবে নির্ধারিত উচ্চমান বজায় রেখে পরিষ্কার করা হয়। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং বিকল্প ফ্লাইটে তাঁদের আসন নিশ্চিত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ছারপোকা ছোট, চ্যাপ্টা ও লালচে-বাদামি রঙের পোকা। সাধারণত মানুষ ঘুমিয়ে থাকলে এগুলো কামড়ায় এবং রক্ত পান করে। ছারপোকার কামড়ে ত্বকে লালচে দাগ, ফোলাভাব ও চুলকানি দেখা দিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জির কারণে উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।

ছারপোকা শুধু বিছানায় সীমাবদ্ধ থাকে না। লাগেজ, ভ্রমণের ব্যাগ, ভাঁজ করা পোশাক, বিছানার চাদর এবং আসবাবের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে এগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ভ্রমণের সময় ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরীক্ষা করা এবং সন্দেহজনক উপদ্রব দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ছারপোকা দূর করতে আক্রান্ত স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পেশাদার কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হয়। কোয়ান্টাসের এ ঘটনায় উড়োজাহাজের পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment