বিমান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ ভিয়েতনামের

ভিয়েতনামে বিমান দুর্ঘটনা মোকাবিলা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অধিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভিয়েতনামে বিমান দুর্ঘটনা মোকাবিলা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অধিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন খসড়া প্রবিধানে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সামরিক বাহিনী ও পুলিশের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি দেশটির নির্মাণ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া সিদ্ধান্ত জমা দিয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বিমান চলাচল খাতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের সমন্বয়সংক্রান্ত নতুন প্রবিধান কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে ২০১২ সালের ৬ আগস্ট জারি করা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

খসড়াটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বের সঙ্গে তাদের কর্তৃত্বের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা। এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমার মধ্যে প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নিজেই অনুসন্ধান ও উদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা অতিক্রম করলে কেবল তখনই বিষয়টি পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

প্রস্তাবিত বিধানে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বও আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেবে প্রাদেশিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা কমান্ড। প্রাদেশিক গণকমিটির চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার নিয়োগ করবেন। অন্যদিকে, কমিউন পর্যায়ের গণকমিটির চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন।

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে বিমান চলাচল অনুসন্ধান ও উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র, বিমানবন্দরের জরুরি কেন্দ্র এবং প্রাদেশিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা কমান্ডকে নিকটবর্তী সামরিক ও পুলিশ ইউনিটের কাছে সরাসরি সহায়তা চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া, উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলের কমান্ডারের ক্ষমতা নির্ধারণের বিষয়টিও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মাঠপর্যায়ের কমান্ডারকে উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা সমন্বয়ের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। প্রথম উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রম সংগঠিত করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কমান্ডারের ওপর থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংস্থাটি বিমান চলাচল খাতের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার পরিকল্পনা অনুমোদন এবং প্রতিবেশী দেশের উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয়ের নথিপত্র অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করবে।

খসড়াটিতে আরও বলা হয়েছে, বিমান অনুসন্ধান ও উদ্ধারসেবা পরিচালনার বিস্তারিত বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা নির্মাণমন্ত্রীকে দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয় বাড়ানো এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ত্বরান্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এসব পরিবর্তন এখনো খসড়া প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে।

Comments (0)
Add Comment