সৌদি রুটে ১৬৫ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ২৩ হাজার

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৬৫টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৬৫টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবগামী এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬৫টি ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যা ২২ হাজার ৯১৭ জন।

বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাহত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৮৮টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪১টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদি আরবের সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১৬টি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বিমান যোগাযোগে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাতায়াতকারী ট্রানজিট যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন।

ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের কারণে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী, ছুটিতে দেশে আসা বাংলাদেশি এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। অনেকে টিকিট পরিবর্তন, নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি এবং যাত্রা নিশ্চিত করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

এদিকে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। গত ২৫ অক্টোবর এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।

সৌদি আরবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। ফলে যাত্রীদের বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সর্বশেষ সময়সূচি জেনে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি রুটে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়া এবং আটকে পড়া যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Comments (0)
Add Comment