ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ৯ অক্টোবর এক আদেশে বাংলাদেশি ৫৪টি এবং ১৭ অক্টোবর অন্য এক আদেশে ১৭৪টিসহ মোট ২২৮টি ওমরাহ এজেন্সিকে ২০১৬-১৭ সালে ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনায় সাময়িকভাবে অনুমোদন দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো এজেন্সি ৫০০ জনের বেশি ওমরাহযাত্রী পাঠাতে পারবে না।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ২৫ অক্টোবরের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলিত বছর যেসব এজেন্সি ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করবে সেসব এজেন্সির প্রতিটি ২০ লাখ টাকা হারে এফডিআর জমা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতি এজেন্সিকে বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ ২৫ হাজার টাকা হারে তিন বছরের জন্য ৭৫ হাজার টাকা, ভ্যাট ১১ হাজার ২৫০ টাকা এবং আবেদনপত্র ফি পাঁচ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। সাময়িকভাবে অনুমতিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরকার তিন বছর পর্যবেক্ষণ করবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে।
গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো এজেন্সির একজন ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতা ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সৌদি আরবে থেকে যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি মালিকের ওপর তার দায় বর্তাবে। ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে এজেন্সি মালিকের জামানত থেকে পাঁচ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে। কোনো এজেন্সির একাধিক ওমরাহযাত্রী দেশে না ফিরলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সমুদয় জামানত বাজেয়াপ্তসহ এজেন্সি নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হবে।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুুল কবির খান জামান বলেন, ২০১৭ সালে ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনায় দু’দফায় সরকার ২২৮টি এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। যারা আগে অনুমোদন পেয়েছে তারা ওমরাহযাত্রী পাঠানোর ভিসার জন্য ঢাকা ও সৌদি দূতাবাসে আবেদন করেছেন। দূতাবাসের ভিসা অফিসার কর্মস্থলে না থাকায় এখনো ভিসা দেওয়া শুরু হয়নি। আশা করছি এ সপ্তাহের মধ্যে ভিসা পাওয়া যাবে এবং আগামী রবি-সোমবার থেকে ওমরাহযাত্রীরা সৌদি আরব গমন শুরু করবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ৫১ হাজার ৩২১ বাংলাদেশি ওমরাহ পালন করতে যান। এর মধ্যে ১০৪টি ওমরাহ এজেন্সির ১১ হাজার ৪১৭ বাংলাদেশি দেশা না-ফেরায় ওমরাহ কার্যক্রম বন্ধ রাখে সৌদি সরকার। অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ফের ওমরাহ কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দেয় রাজকীয় সৌদি সরকার।