এদিকে, এ বছরও পূর্ণ হচ্ছে না সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা। এ ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে আগ্রহীদের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হওয়ার এক মাসেও তেমন সাড়া পড়েনি। ১০ হাজার কোটার পরিবর্তে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাক-নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৫১৬ জন। এর মধ্যে রয়েছেন আগের বছরের ১২৬ জন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার প্রাক-নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এ সংখ্যা বাড়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই খালি থাকা কোটা নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
জানা গেছে, বেসরকারি হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও হাব নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তের আলোকে বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সহকারী সচিব (হজ-২) বেগম হাসিনা শিরীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এজেন্সিগুলো উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আগের প্রাক-নিবন্ধিতসহ এজেন্সিপ্রতি সর্বনিম্ন কোটা অর্থাৎ ১৫০ জনকে যে কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধিত করতে পারবে, যা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন কার্যদিবস পর্যন্ত বহাল থাকবে।
যেসব হজ এজেন্সির এরই মধ্যে ১৫০ জন বা তদূর্ধ্ব হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন করা আছে, তারা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন কার্যদিবস পর্যন্ত কোনো প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবে না। প্রথম তিন দিন পর চুক্তিবদ্ধ সব এজেন্সির জন্য প্রাক-নিবন্ধন উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং এর নির্ধারিত সীমা থাকবে না। ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর জন্য ২ হাজার ৬০৪ জন গাইড ও চূড়ান্তভাবে সৌদি আরবে কোটাপ্রাপ্ত এজেন্সির মোনাজ্জেমদের জন্য কোটা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট কোটা এ বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনেচ্ছুদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। আগের বছর যারা ২০১৭ সালের জন্য প্রাক-নিবন্ধন করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার প্রদান করে প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমানুযায়ী এ বছরের নিবন্ধনের জন্য ডাকা হবে এবং গাইড ও মোনাজ্জেমসহ ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জনের সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার পর বাকি ক্রমিক নম্বরগুলো পরবর্তী বছরের জন্য প্রাক-নিবন্ধিত হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রাক-নিবন্ধিতদের কেউ হজে যেতে না চাইলে তাদের টাকা রিফান্ড করার নিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপন বিষয়ে বলা হয়েছে, একটি হজ এজেন্সি সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সুবিধা পাবে। অনিয়মের শাস্তি প্রসঙ্গে বলা হয়, কোনো হজ এজেন্সি যদি নিয়মের বাইরে কোনো রকম কার্যক্রম করে বা ডাটা এন্ট্রি/ভাউচার/টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতির বাইরে অস্বাভাবিক এবং অনিয়ম সংঘটন করে, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চুক্তিবদ্ধ কোনো এজেন্সি নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে ১৫০ জনের ভাউচার তৈরি না করলে এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বাদ দেয়া হবে। নতুন নিয়ম প্রসঙ্গে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোয়িশেন অব বাংলাদেশ-হাবের সভাপতি ইব্রাহিম বাহার বলেন, এবার দুই ধাপে প্রাক-নিবন্ধনের নিয়ম করায় এজেন্সিগুলোর অসম প্রতিযোগিতা এবং অবৈধ-অপকর্ম বন্ধ হবে। এজেন্সিগুলো এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ বাংলাদেশী হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে গেল বছর নিবন্ধিত আছেন ৩৯ হাজার ৭০৩ জন। তাই নতুন করে ৮৭ হাজার ৪৯৫ জন প্রাক-নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। প্রাক-নিবন্ধনের জন্য হজ অফিসের আইটি বিভাগসহ এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, গেল বছরও সরকারি হজযাত্রীদের কোটা ছিল ১০ হাজার। তবে ওই কোটায় হজে গিয়েছিলেন মাত্র ৫ হাজার ২০০। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৪ হাজার ৮০০ জনের কোটা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে এই বিশেষ কোটায় হজযাত্রী পাঠানো নিয়ে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিষয়ে আগে থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিবন্ধন সংশ্লিষ্টরা।
হজ অফিসের আইটি বিভাগ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি কোটায় ২ হাজার ৫১৬ জন প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। কবে নাগাদ এ প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ কোটায় প্রাক-নিবন্ধনের গতি বর্তমানে প্রায় থেমে আছে। এবারও কোটা খালি থাকলে তা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার। সম্ভাব্য খালি থাকা কোটা সমতার ভিত্তিতে বেসরকারি এজেন্সিগুলোর মধ্যে বণ্টন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধনের জন্য জামানত ও ফি বাবদ ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা জমা দিতে হবে। অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধনের ক্ষেত্রে হজযাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও এমআরপি পাসপোর্ট লাগবে। প্রাক-নিবন্ধিতদের ৩০ মার্চের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করে পিলগ্রিম আইডি সংগ্রহ করতে হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হবেন, তারা পিলগ্রিম আইটি পাবেন না এবং এ বছর হজে যেতে পারবেন না। তবে পরবর্তী এক বছর তাদের প্রাক-নিবন্ধন বলবৎ থাকবে। উল্লেখ্য, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার জন্য প্যাকেজ-১ এর আওতায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর আওতায় ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার জন্য সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছে সরকারি প্যাকেজ-২ এর সমপরিমাণ তথা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা। এর বাইরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করছে বেসরকারি এজেন্সিগুলো।