এবারও হজের সুযোগ পাবেন না অর্ধ লক্ষাধিক আগ্রহী বাংলাদেশী

গেল বছরের চেয়ে এবার বাংলাদেশী হজযাত্রীর কোটা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার। তবে আগ্রহীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবারও সবার ভাগ্যে হজে যাওয়ার সুযোগ হবে না। এরই মধ্যে সৌদি আরব সরকার নির্ধারিত কোটার চেয়ে অর্ধ লক্ষাধিক বেশি হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়বে। ফলে অতিরিক্ত এসব ব্যক্তিকে হজের জন্য পরবর্তী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ বছর বাংলাদেশী হজযাত্রীর কোটা নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা ১০ হাজার। বাকি সংখ্যক বেসরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত। গেল বছর বাংলাদেশের জন্য কোটা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার থাকলেও তা পূর্ণ না হওয়ায় পরে ৪ হাজার ৮০০ জনকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়া হয়।

সৌদি আরবের ই-হজ সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গেল বছর থেকে বাংলাদেশী হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই বছর মোট কোটার চেয়ে ৩৭ হাজার ৪৯৪ জন বেশি প্রাক-নিবন্ধন করেছিলেন। তবে তারা হজে যেতে না পারায় এবারের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। অপেক্ষমাণ এসব আগ্রহী হজযাত্রীকে এবার অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

হজ অফিস সূত্র জানায়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় ১৫ জানুয়ারি থেকে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ কোটায় মাত্র ২ হাজার ৫৭৬ জন প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। অপরদিকে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হয়। ২ দিনের মাথায় এ ব্যবস্থাপনায় কোটা প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার এ কোটায় প্রাক-নিবন্ধনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২০৮ জনে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গেল বছরের প্রাক-নিবন্ধিত ৩৭ হাজার ৪৯৪ জন। অর্থাৎ বেসরকারি কোটার চেয়ে ৫৭ হাজার ৫০৪ জন বেশি প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ১ হাজার ৯৭টি এজেন্সির মাধ্যমে এবার বেসরকারি হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন করা হয়েছে।
হজ অফিসের আইটি বিভাগের কর্মকর্তা কবির আল মামুন জানান, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন অব্যাহত থাকবে। কোটার চেয়ে বেশি হলে তারা পরবর্তী বছরের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবেন। তবে এবার হজযাত্রীদের মূল নিবন্ধনের জন্য ২০ মার্চ থেকে সাময়িকভাবে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বেসরকারি হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন এজেন্সি অনানুষ্ঠানিকভাবে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই বলে হজ অফিসের আইটি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আইটি কর্তৃপক্ষ জানান, প্রাক-নিবন্ধন সিরিয়াল নাম্বার প্রদানের ইঞ্জিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং ক্রমানুসারে কাজ করে, যা প্রতি সেকেন্ডে একাধিক ভাউচার প্রক্রিয়ার অনুরোধ সম্পন্ন করে থাকে। তাই এখানে কাউকে আলাদা করে করে সিরিয়াল নাম্বার রাখার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া এবার আকস্মিকভাবে এজেন্সি প্রতি হজযাত্রীর কোটা ১৫০ জন নির্ধারিত করার নিয়মে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কোটা অনুযায়ী হজযাত্রী পাঠানো নিয়ে শেষ দিকে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Comments (0)
Add Comment