মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে বোয়িংয়ের দুটি ৭৩৭ ম্যাক্স এইট উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় এ মডেলের উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করেছে বিশ্বের সব এয়ারলাইনস। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ বড় আকারে গ্রাউন্ডিংয়ের ঘটনা বিরল। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস ও লায়ন এয়ারলাইনসের দুর্ঘটনা দুটির মধ্যে সংযোগ রয়েছে কিনা, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তা বলা যাচ্ছে না। ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের তথ্য বিশ্লেষণের জন্য সেগুলো প্যারিসে পাঠানো হয়েছে। নীতিনির্ধারকরা যখন কোনো নির্দিষ্ট মডেলের উড়োজাহাজের সবগুলো গ্রাউন্ডেড করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন উড়োজাহাজ বাজার ও এয়ারলাইনসের ওপর ব্যাপক প্রভাব রাখে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পদক্ষেপের পর সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রও ৭৩৭ ম্যাক্স গ্রাউন্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ৭৩৭ ম্যাক্সের গ্রাউন্ডিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জেনে আসা যাক গত আট দশকে বিশ্বের ইতিহাসে বৃহত্তম কয়েকটি গ্রাউন্ডিংয়ের ঘটনা
২০১৩: বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার
দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট বড় আকারের এ উড়োজাহাজ বাজারে আসার দুই বছরের মাথায় ব্যাটারিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে জাপানের অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ তাদের একটি ৭৮৭ উড়োজাহাজ নিকটস্থ বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সব যাত্রী ও ক্রু নামিয়ে দেয়। এর দিন কয়েক বাদে বোস্টনে পার্ক করা জাপান এয়ারলাইনসের অন্য একটি ড্রিমলাইনারের ব্যাটারি কম্পার্টমেন্ট থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ফলে দেশব্যাপী ড্রিমলাইনারের সব উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। একই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের এভিয়েশন কর্মকর্তারাও। তদন্তের পর নতুন ব্যাটারি ডিজাইন শেষে প্রায় তিন মাস পর আবার সেবা চালু করে ড্রিমলাইনার।
১৯৭৯: ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০
শিকাগোয় আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৯১ বিধ্বস্তের পর উড়োজাহাজ সংস্থাটি তাদের সব ডিসি-১০ উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করে রাখে। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন আরোহীর মৃত্যু হয়েছিল। উড্ডয়নের সময় ফ্লাইট ১৯১-এর বাম পাশের ইঞ্জিনটি পাখা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। ফলে ডিসি-১০-এর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তদন্তকারীরা। গ্রাউন্ডেড হওয়ার ৩৭ দিন পর আবার উড়াল দেয় ডিসি-১০।
১৯৪৬: লকহিড এল-০৪৯ কনস্টেলেশন
১৯৪৬ সালে পেনসিলভানিয়ার রিডিংয়ে টিডব্লিউএ কনস্টেলেশনের এক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছিলেন। তারপর একই মডেলের উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এ মডেলের সব উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড রাখার সিদ্ধান্ত নেন। পুরোদমে সেবা চালুর আগে সাত সপ্তাহ গ্রাউন্ডেড ছিল লকহিড ০৪৯।
১৯৩১: ফকার এফ-১০এ
১৯৩১ সালের কানসাসে টিডব্লিউএ এফ-১০এ উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনাটি গণমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছিল। কারণ নিহত আট যাত্রীর একজন ছিলেন বিখ্যাত নটর ডেম ফুটবল কোচ কেনিউট রকনে। তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন ত্রুটিপূর্ণ পাখার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এফ-১০এ’র সব উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন নীতিনির্ধারকরা। পরে সব উড়োজাহাজই সেবায় ফিরেছিল। কিন্তু আস্থা সংকট ও ব্যবসায়িক কারণে ওই মডেলের উড়োজাহাজ উড্ডয়ন একেবারে বন্ধ করে দিয়েছিল উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো।
সূত্র: সিএনএন বিজনেস