মধ্যপ্রাচ্যের রুটে বাজেট এয়ারক্রাফট চালু করুক বিমান।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি এ অঞ্চলে উড়োজাহাজ চলাচলের নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হতে পারত। ঢাকা থেকে পূর্ব কিংবা পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চমত্কার সংযোগস্থল হিসেবে গড়া ওঠার সম্ভাবনাও ছিল। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে খুব একটা নজর দেয়নি। নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা যেমন বেড়েছে, তেমনি ফ্লাইট পরিচালনা ও ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায়নি। এদিকে কয়েক বছরের ব্যবধানে অনেকগুলো বিদেশী এয়ারলাইনস বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করে দেয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কমে গেছে। ফলে বেড়েছে এ রুটের সব ফ্লাইটের ভাড়া। এতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সংকট।
তাছাড়া অনেকটা হঠাৎ করেই ওমান ও কাতার শ্রমিক নিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশী শ্রমিকদের অনেকেরই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুটি দেশ। এখন অতিরিক্ত ভাড়ার ফলে অসচ্ছল শ্রমিকদের ওপর চাপ আরো বাড়বে। অন্যদিকে শ্রমিকদের মধ্যে যারা দেশে অবস্থান করছেন, তাদের অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টিকিট ক্রয়ে অপারগ। সব মিলিয়ে শ্রমিকদের বিদেশে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের আগের তুলনায় অতিরিক্ত দু-তিন গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে দেশে ফিরতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে সরকারি-বেসরকারি বিমান কর্তৃপক্ষের বিকল্প ব্যবস্থা থাকা চাই। এক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ বাজেট এয়ারক্রাফট চালু করতে পারে। এ ধরনের এয়ারক্রাফটে সিট সংখ্যা অন্যান্য এয়ারক্রাফটের তুলনায় বেশি থাকে। ফলে একই খরচে বেশিসংখ্যক যাত্রী বহন সম্ভব হয়। তাই মধ্যপ্রাচ্যের রুটে প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি আমলে নিয়ে এ ধরনের বাজেট এয়ারক্রাফট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। তাছাড়া লোকসান ঠেকাতে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রুটে এয়ারলাইনসগুলোর হজ কিংবা ঈদ মৌসুমকে লক্ষ্য হিসেবে নেয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এয়ারলাইনসের লোকসান হয় এমন সব রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সীমিত করে মধ্যপ্রাচ্যের রুটে বাজেট এয়ারক্রাফট চালুর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। শ্রমিকদের টিকিটের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এয়ারলাইনস কর্তৃক বিশেষ কোনো এজেন্সির কাছে অগ্রিম আসন বিক্রি না করার বিধান জরুরি। সবার জন্য উন্মুক্তপূর্বক আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করা চাই।