ডিএফও থেকে জামিলকে সরানোয় বিমানজুড়ে স্বস্তি।
বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ডিএফও পদ থেকে বিমানের ভারপ্রাপ্ত এমডি ক্যাপ্টেন ফারহাত জামিল কে সরিয়ে ক্যাপ্টেন মাহাতাব কে দায়িত্ব দেয়ায় বিমান জুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে।মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে অনেকেই একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে সরিয়ে নতুন ডিএফও নিয়োগ দেয়ায় বিমানে একধরেনের স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করেন তারা।
মন্ত্রণালয় সুত্র জানায়, শিগিরই ক্যাপ্টেন জামিল কে বিমানের ভারপ্রাপ্ত এমডি পদ থেকেও সরানো হবে। কারণ তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বিমানের এমডি মোসাদ্দেক আহমেদ, পাইলট নিয়োগ কমিটির প্রধান ক্যাপ্টেন জামিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রকল্পের দুর্নীতি খুঁজে বের করতে দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই টিমের সঙ্গে সহকারী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিনকেও সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সহকারী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিনকে আলাদাভাবে বিমানে পাইলট নিয়োগে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
পাইলট নিয়োগ কেলেঙ্কারি ছাড়াও জামিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক কম ফ্লাই করেও প্রতি মাসে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, বেতনের বাইরে শুক্র-শনিবার ফ্লাই করার নামে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে ‘ডে-অফ ফি’ও উঠাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, বিমানের আইন অনুযায়ী, বছরে একজন পাইলটকে কমপক্ষে ৭৫০ ঘণ্টা ফ্লাই করতে হয়। এর নিচে ফ্লাই করার অর্থ বসে বসে বেতন নেয়া।
জানা গেছে, আগে বিমানের পাইলটদের বেতন হতো ফ্লাইং আওয়ার অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টা অনুযায়ী। কিন্তু পাইলটরা আন্দোলন করে ২০০৮ সাল থেকে তাদের বেতন স্থায়ী করে নেন। অর্থাৎ ফ্লাই করুক আর না করুক, বিমানকে প্রত্যেক পাইলটের জন্য মাসিক বেতন দিতে হতো গড়ে ৭ লাখ টাকা। সম্প্রতি আবারও পাইলটদের বেতন ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এখন একজন সিনিয়র পাইলট মাসে বেতন পাচ্ছেন ৯ লাখ টাকা। এর বাইরে মাসে ৭৫০ ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করলে প্রতি ঘণ্টার জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা অ্যালাউন্স দিতে হচ্ছে।
এছাড়া মাসে ৮ দিন বাধ্যতামূলক ছুটি পান একজন পাইলট। কোনো কারণে ওই ছুটি কর্তন করা হলে প্রতিদিনের জন্য ১৪ হাজার টাকা ‘ডে অফ ফি’ দিতে হয়। অভিযোগ আছে, বিমানের পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন্স (ডিএফও) ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদ ২০১৮ সালে ফ্লাই করেছেন মাত্র ২৪২ ঘণ্টা। অথচ তিনি প্রতি মাসে গড়ে ৯ লাখ টাকার (ট্যাক্স ছাড়া) পাশাপাশি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ‘ডে অফ ফি’ উঠাচ্ছেন। এই ২৪২ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশই ছিল ভিআইপি বা ভিভিআইপি ফ্লাইট। অথচ ক্যাপ্টেন জামিল বিমানের একজন উচ্চপর্যায়ের সিমুলেটর ইন্সট্রাক্টর। সিডিউল ফ্লাইটের পাশাপাশি তিনি সিমুলেটর ট্রেনিংয়েও ফ্লাই করেন না। ফলে মোটা অঙ্কের টাকায় বিদেশি ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ দিতে তার ফ্লাইগুলো করাতে হচ্ছে।
এছাড়া ক্যাপ্টেন জামিলের ফ্লাইটগুলো করানোর জন্য প্রতি মাসে অন্য একজন পাইলটকে ৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। বিষয়টি স্বীকার করে ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদ কিছুদিন আগে বলেছেন, অন্য পাইলটদের সম্পর্কে তিনি কিছু বলবেন না। যেহেতু তিনি ম্যানেজমেন্টে আছেন সেজন্য তার ফ্লাইট না করলেও চলে। অর্থাৎ পলিসিগত কারণে তিনি ডিউটি করতে পারছেন না।