এবার সরানো হল বাংলাদেশ বিমানের ডিএফও জামিলকে

এবার সরানো হল বাংলাদেশ বিমানের ডিএফও জামিলকে।

বিমানের পাইলট নিয়োগে কেলেঙ্কারি ও প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে অসঙ্গতির ঘটনায় এবার পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন (ডিএফও) ক্যাপ্টেন ফরহাত জামিলকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। একইদিন গুরুত্বপূর্ণ আরও ১১টি পদেও রদবদল হয়েছে।

তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে এখনও বহাল তবিয়তে আছেন ক্যাপ্টেন ফরহাত জামিল। এর আগে একই অভিযোগে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহম্মেদকে সরিয়ে দেয়া হয়।
জানা গেছে, দু’একদিনের মধ্যেই বিমানের এমডি পদে নিয়োগ চূড়ান্ত হতে পারে। এ লক্ষ্যে সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়েছে ১৪ কর্মকর্তাকে।
এদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেয়া হবে নতুন এমডি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ চূড়ান্ত হলেই সরতে হবে ক্যাপ্টেন ফরহাত জামিলকে। সূত্র জানায়, পাইলট নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির নেপথ্যে মূল ভূমিকায় ছিলেন এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানেও বলা হয়েছে, দুই দফায় ৫৮ পাইলট নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন ক্যাপ্টেন ফরহাত জামিল। দুটি নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন (ডিএফও) হিসেবে তিনিই ছিলেন নিয়োগ কমিটির প্রধান।
দুদকের অনুসন্ধান ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও বর্তমান এমডি ক্যাপ্টেন ফরহাত জামিলসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাইলট নিয়োগে অনিয়মে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শুধু ডিএফও পদ থেকে নয়, ফরহাত জামিলকে শিগগিরই এমডির পদ থেকেও সরিয়ে দেয়া হবে। এরপর এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাসহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করবে দুদক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে অনিয়মের অভিযোগ মাথায় নিয়ে মোসাদ্দিক আহমেদ এমডির পদ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন সেই একই অভিযোগ ক্যাপ্টেন জামিলের বিরুদ্ধেও।
তাই আগের এমডিকে যদি এই অভিযোগে চাকরি হারাতে হয়, তাহলে বর্তমান এমডি কেন নয়- এমন আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে। এ ধরনের আলোচনার মধ্যেই গত সপ্তাহের শেষদিন জামিলকে সরিয়ে এ পদে ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবকে নিয়োগ দেয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, মোসাদ্দিক আহমেদ ও ফরহাত জামিল তাদের খুশিমতো পাইলট নিয়োগ দিতে গিয়ে এ সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের পাশ কাটিয়ে সব সিদ্ধান্ত নিতেন।
মোসাদ্দিক তার ভাতিজাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। পাইলট নিয়োগ ১৩ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্টসংখ্যক প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে সংশোধনী এনে শিক্ষাগত যোগ্যতা হ্রাস করা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপেক্ষা করা হয়েছে বিমানের পরিচালনা পর্ষদকে। নিয়োগ পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা রাখা (দেশের কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার নজির নেই)।
বিমানের অপারেশনাল ম্যানুয়েল পার্ট অনুসারে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৭৫ নম্বরের লিখিত এবং ২৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার বিধান থাকলেও তা না মানা, লিখিত পরীক্ষায় পাস করা ৭৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানো।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অপারেশনাল ম্যানুয়েল অনুসারে ক্যাডেট পাইলট পদের জন্য বয়স ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর রাখা হয়। এখানেও বয়সসীমা ৪০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে অনিয়ম করা হয়েছিল।
প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স নির্ধারণে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ না করে দু’জনের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা দিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম মোসাদ্দিক আহমেদের ভাতিজাসহ কমপক্ষে ৩০-৩২ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে।
ভাতিজাকে নিয়োগ দিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম মোসাদ্দিক আহমেদ ও ক্যাপ্টেন জামিল দু’জনের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পরীক্ষায় যে ৫৪ জন পাস করেছে তাদের ফলাফল পুনরায় প্রস্তুত করে দেখা গেছে কমপক্ষে ৫ জন প্রার্থীর ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। অর্থাৎ যে ৩২ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছিল সে তালিকা থেকে ৫ জন বাদ যায় এবং ৩৩-৩৭ তালিকায় থাকা প্রার্থীরা ওপরে উঠে আসে।
সমন্বিত তালিকা প্রস্তুতকালে ম্যানুয়েলে বর্ণিত বিধান অনুসরণ না করে কমপক্ষে ৫ জন প্রার্থীর প্রতি অবিচার করা হয়েছে। ৭৬ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ ফলাফল বিবেচনা করা হলে অবিচারের তালিকা আরও দীর্ঘ হতো।

যুগান্তর

Comments (0)
Add Comment