এখনও মিয়ানমার উপকূলে আটকা বিদেশগামীরা

আটক হওয়ার পর টানা তিন দিন ধরে মিয়ানমারের উপকূলে অবস্থান করছে বিদেশগামীবাহী ৭২৭ জনকে বহনকারী নৌকা। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আটক বিদেশগামীদের পরিচয় নির্ণয় চলছে। খবর রয়টার্সের।

মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র ইয়ে হ্তুত সোমবার বলেন, ‘সরকার তাদের (বিদেশগামী) পরিচয়-নিরীক্ষা করছে। তারা কী করতে চায় এবং কোথায় যেতে চায় সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

বিদেশগামীবাহী নৌকাটি কোথায় রয়েছে এ সম্পর্কে কিছু জানাননি হ্তুত। তিনি বলেন, ‘সাধারণত, বেশিরভাগ লোকজনই বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায়। তাই আমরা তাদের ইচ্ছানুযায়ী ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা করব।’

দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এখনও গত শুক্রবার আটক হওয়া ওই বিদেশগামীদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলিম ও বাংলাদেশী নাগরিক সবাইকে ‘বাঙালী’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে। তারা রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের বাধা

বিদেশগামীদের দেখতে যাওয়া সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মানবাধিকার কর্মীদের আটকে দিয়েছে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। সমুদ্র উপকূলে গত রবিবার তাদের বাধা দেওয়া হয়।

বিদেশগামীবাহী নৌকার খানিকটা কাছাকাছি গিয়ে সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও করলে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের ক্যামেরা কেড়ে নেন। এরপর সেগুলো থেকে ছবি ও ভিডিওগুলো মুছে ফেলেন তারা। এমনকি সাংবাদিকদের দিকে রাইফেল তুলে ধরেন এক নাবিক।

এ সময় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সদস্যদেরও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এক পর্যায়ে তাদের নৌকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

অনেকেই রাখাইন ভাষী

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, আটক হওয়া নৌকারোহীদের অনেকেই রাখাইন ভাষায় কথা বলতে পারেন।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশের ভাষা রাখাইন। এ ভাষায় কোনো বাংলাদেশী কথা বলেন না।

কিন্তু দেশটির সরকার বিদেশগামীদের বাংলাদেশী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারে। এর আগে আটক হওয়া একটি নৌকার সব আরোহীকে ‘বাংলাদেশী’ হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমার। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নৌকায় রোহিঙ্গারাও ছিল, যাদের আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়।

মিয়ানমার সরকারের দাবি, দেশটির রাখাইন প্রদেশে বসাবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশ থেকে আসা। তাই এরা বাংলাদেশের নাগরিক।

অপরদিকে রোহিঙ্গাদের দাবি, হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসা জন্মভূমি মিয়ানমারের বৈধ নাগরিক তারা। বাংলাদেশ সরকারও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নাগিরকত্ব দিতে বার বার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Comments (0)
Add Comment