বাংলাদেশ বিমানের জেদ্দা ও লন্ডনের (কার্গো) জেনারেল সেল্্স এজেন্ট (জিএসএস) নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম ও আন্ডারহ্যান্ড ডিলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। খোদ বিমানেরই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। জানাগেছে শুধু নিয়োগ নিয়েই অনিয়ম হয়নি, জেদ্দাস্থ তাদের পছন্দের ওই জিএসএকে চুক্তির বাইরে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে কর্মরত রেখে গত এক বছরে কোটি কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই সিন্ডিকেট কিছুদিন আগে ওই জিএসএ‘র মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার পরও গোপনে আবার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্দ হয় বিমানের ওই সিন্ডিকেট। জানাগেছে এরপর থেকে ওই সিন্ডিকেট কিভাবে আবারো ওই পছন্দের কোম্পানীকে বিমানের জেদ্দার জিএসএ হিসাবে নিয়োগ দেয়া যায় তার নীলনকশা চুড়ান্ত করে আসছিল। জানাগেছে সম্প্রতি সিন্ডিকেটের একটি গ্রুপ জেদ্দায় গিয়ে তাদের পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে। জানাগেছে বিমান ম্যানেজমেন্টের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে মার্কেটিং বিভাগের একজন জেনারেল ম্যানেজার ও ফাইনান্স বিভাগের একজন উর্ধতন কমকর্তার একটি সিন্ডিকেট এই অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। জানাগেছে এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বড় ধরনের আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং হয়েছে। সম্প্রতি ওই কর্মকর্তারা জেদ্দা দিয়ে ওই অপারেটরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। ওই কোম্পানীর দেয়া গাড়ি ব্যবহার করে তারা সৌদি আরবে গিয়ে আমোদ ফুর্তিও করেছেন। বিমানের ওই গ্রুপ দেশে আসার পর তাদের গ্রীন সিগনাল পেয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জিএসএ অপারেটরের একজন প্রতিনিধি বাংলাদেশে এসে আবারও তারা জিএসএ পাচ্ছে বলে নিশ্চিত হয়ে গেছে। তারা বালাদেশে এসে বিমানের ব্যবস্থাপনা শীর্ষ কর্মকর্তা, মার্কেটিং বিভাগের একজন জেনারেল ম্যানেজার এবং একজন প্রভাবশালী বোর্ড মেম্বারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে ওই অপারেটর বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির একজন সদস্যের সঙ্গেও গোপন বৈঠক করেছেন। অভিযোগ উঠেছে সংসদীয় কমিটির ওই প্রভাবশালী সদস্যই ওই জিএসএস অপারেটরকে এবারও বিমানের জিএসএস হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য তদবির করছেন। জানাগেছে সংসদীয় কমিটির ওই সদস্য জিএসএ অপারেটরের মালিককে বলেছেন, বিমানের কাগজপত্রে যদি তিনি সবার উপরে থাকতে পারেন তাহলে তিনি পরিচালনা পর্যদ ও মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে তাকে জেদ্দার জিএসএস হিসাবে নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। অনুসন্ধানে জানাগেছে এরপরই মুলত ওই সিন্ডিকেট তাদের পছন্দের পকেট কমিটি গঠন করে কাউকে না জানিয়ে জেদ্দায় পাঠায়। জানাগেছে ওই কমিটি যে জেদ্দায় গেছে সে তথ্য বিমান পরিচালনা পর্যদের উপ কমিটির কোন সদস্যও জানেনা। একমাত্র বিমানের এমডি ও মার্কেটিং বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি জানেন। জানাগেছে ওই পকেট কমিটি জেদ্দায় গিয়ে কোন ধরনের তথ্য যাচাই বাছাই না করে কিভাবে তাদের পছন্দের কোম্পানীকে এক নম্বরে করা যাবে সে পরিকল্পনাই শুধু করেছিল। এমনকি তাদের পছন্দের কোম্পানী ছাড়া অন্য কোন কোম্পানীর কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেনি।
এদিকে জেদ্দায় বর্তমানে যে জিএসএ অপারেটরটি কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে গত ১০ বছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে জেদ্দাতে ওই কোম্পানীর অসংখ্য এয়ারলাইন্সের জিএসএ হিসাবে কাজ করছে। একারণে প্রায়‘শ তারা বিমানের পরিবর্তে অন্য এয়ালাইন্সকে যাত্রী বিক্রি করে দিতো। এতে অধিকাংশ সময় বিমানের ফ্লাইটগুলো খালি আসতো বাংলাদেশে। এ বিষয়ে স্থানীয় যাত্রীরা ওই জিএসএ‘র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও মাসিক মোটা অংকের মাসোহারা পাওয়ার কারণে বিমান ম্যানেজমেন্ট তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ প্রসঙ্গে বিমান পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, আগে বছরের পর বছর বিমানের জিএসএ অপারেটরদেরকে চুক্তি শেষে শুধু নবায়ন করা হতো। কোন টেন্ডার আহবান করতো না। তিনি বলেন, তার নির্দেশনার পর এখন যে জিএসএ‘র মেয়াদ শেষ হবে সেখানে নতুন করে টেন্ডার অঅহবান করা হবে। তার মতে এতে বিমান বড় অংকের লাভবান হবে। এদিকে লন্ডনের কার্গো জিএসএ নিয়োগ নিয়েও বড় ধরনের অনিয়ম-দুনীতির অভিযোগ উঠেছে। এখানেও একটি সিন্ডিকেট প্রতিমাসে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে একটি বিদেশী এজেন্সিকে বিমানের জিএসএ হিসাবে নিয়োগ দিয়ে আসছে। এবারও ওই এজেন্সিকে নিয়োগ দেয়া সংক্রান্ত সব পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে ফেলেছে। লন্ডনের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত এজেন্সির কাছ থেকে কার্গো পন্য নিয়ে ওই বিদেশী এজেন্সি তাদের মুল ব্যবসা চালাচ্ছে। কিন্তু তারা বিমানের ওই সিন্ডিকেটকে মাসোহারা দিতে রাজী না হওয়ায় তারা শত চেষ্টা করেও বিমানের জিএসএস হিসাবে নিয়োগ পাচ্ছে না।
এদিকে জেদ্দায় বর্তমানে যে জিএসএ অপারেটরটি কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে গত ১০ বছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে জেদ্দাতে ওই কোম্পানীর অসংখ্য এয়ারলাইন্সের জিএসএ হিসাবে কাজ করছে। একারণে প্রায়‘শ তারা বিমানের পরিবর্তে অন্য এয়ালাইন্সকে যাত্রী বিক্রি করে দিতো। এতে অধিকাংশ সময় বিমানের ফ্লাইটগুলো খালি আসতো বাংলাদেশে। এ বিষয়ে স্থানীয় যাত্রীরা ওই জিএসএ‘র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও মাসিক মোটা অংকের মাসোহারা পাওয়ার কারণে বিমান ম্যানেজমেন্ট তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ প্রসঙ্গে বিমান পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, আগে বছরের পর বছর বিমানের জিএসএ অপারেটরদেরকে চুক্তি শেষে শুধু নবায়ন করা হতো। কোন টেন্ডার আহবান করতো না। তিনি বলেন, তার নির্দেশনার পর এখন যে জিএসএ‘র মেয়াদ শেষ হবে সেখানে নতুন করে টেন্ডার অঅহবান করা হবে। তার মতে এতে বিমান বড় অংকের লাভবান হবে। এদিকে লন্ডনের কার্গো জিএসএ নিয়োগ নিয়েও বড় ধরনের অনিয়ম-দুনীতির অভিযোগ উঠেছে। এখানেও একটি সিন্ডিকেট প্রতিমাসে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে একটি বিদেশী এজেন্সিকে বিমানের জিএসএ হিসাবে নিয়োগ দিয়ে আসছে। এবারও ওই এজেন্সিকে নিয়োগ দেয়া সংক্রান্ত সব পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে ফেলেছে। লন্ডনের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত এজেন্সির কাছ থেকে কার্গো পন্য নিয়ে ওই বিদেশী এজেন্সি তাদের মুল ব্যবসা চালাচ্ছে। কিন্তু তারা বিমানের ওই সিন্ডিকেটকে মাসোহারা দিতে রাজী না হওয়ায় তারা শত চেষ্টা করেও বিমানের জিএসএস হিসাবে নিয়োগ পাচ্ছে না।