নতুন করোনাভাইরাসের (COVID-19) আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। গত এক মাসে (২১ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের সব প্রবেশপথে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫৪ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার লোকের স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। তবে চীনসহ বিভিন্ন দেশে এ রোগে প্রায় পৌনে এক লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২২৪৫ জনের। চীনের দুটি কারাগারে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে।
রোগটির ভয়াবহতা অনুধাবন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে। বাংলাদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আসা ১ লাখ ২৩ হাজার ৬১৬ জন যাত্রীকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা ৮ হাজার ৩৭১ জন। দেশের দুটি সমুদ্রবন্দরে স্ক্রিনিং করা হয়েছে ২৯৫৯ জনের। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে স্ক্রিনিংকৃত যাত্রীর সংখ্যা ২০৩৪ জন। এছাড়া দেশের অন্য স্থলবন্দরগুলোতে গত এক মাসে ১ লাখ ৩১ হাজার ২০৪ জনের স্ক্রিনিং হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, আমরা এ পর্যন্ত ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫৪ জন স্ক্রিনিং করেছি। এর মধ্যে সন্দেহজনক ৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু কারও শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তিনি দেশবাসীকে এ সংক্রান্ত বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে যে কোনো বিষয়ে জানতে আইইডিসিআর’র হট নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানান।
সংক্রমণ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এসএম আলমগীর বলেন, এক্ষেত্রে সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে দুই হাত কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে ধুতে হবে। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করা যাবে না। ইতিমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। অসুস্থ পশু, পাখির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে। মাছ-মাংস-ডিম ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে। অসুস্থ হলে ঘরে থাকতে হবে, বাইরে যেতে হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।