‘প্লেনের সিট কখনই স্লিপার বার্থ নয়’

যাত্রাপথে আপনার আরাম যেন অন্যের সহ্যের সীমা না ছাড়ায়। এমনকী, আপনার আনন্দ যেন অন্যের নিরানন্দের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। এ শিক্ষা নতুন নয়। কিন্তু বহু প্রচলিত শিক্ষাই অনেকে ভুলে যান বিমানের যাত্রাপথে। আর তার হ্যাপা পোহাতে হয় সহযাত্রীকে। এ নিয়ে তাই যাত্রীদের জন্য বিস্তর ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’ রয়েছে। কিন্তু অনেক যাত্রীই তাতে থোড়াই কেয়ার করেন এবং যাত্রাপথে তাঁর ‘যেমন খুশি’ আচরণে অন্যের যাত্রাপথ অসহ্য হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি যাতে কমে, সে জন্য ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এ বার মূল পাঁচটি ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’কে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা শুরু করেছে। ওই সব নিয়মাবলী মন্ত্রক থেকে সব সোস্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা শুরু হয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ কেন এমন প্রচার শুরু হল ?

চলতি মাসের ৯ তারিখে এমনই এক পরিস্থিতির শিকার হন আমেরিকান এয়ার এয়ারলাইন্সের এক মার্কিন যুবতী। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও অভিযোগকারিণী এই যুবতীর সহযাত্রী তার সিটের ব্যাক রেস্টে ঘুষি মারতে থাকেন এবং তাঁকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। ওই যুবতী এরপর তার এই সহযাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাযন এবং যাত্রাপথের তাঁর গোটা অভিজ্ঞতাটি ক্যামেরাবন্দি করেন এবং সেই ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক ভাইরাল হয়।

গোটা বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার পরই বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক বেশ কিছু কোড অফ কন্ডাক্ট নথিভূক্ত করে সেগুলি প্রচার করা শুরু করেছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। কী সেই ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’?

1. মাঝখানের সিটে যিনি বসবেন, তিনিই একমাত্র দু’দিকের হাতলে হাত রাখতে পারবেন।

2. বিমানে ওঠার আগে নিজের গায়ের গন্ধ দেখে নিন। অল্প জায়গার মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। কেউই চান না, পাখির খাঁচার গন্ধ সহ্য করে পুরোটা রাস্তা যাবেন।

3. নিজের পা-কে যতটা সম্ভব অল্প জায়গায় রাখুন। পা ছড়িয়ে রাখবেন না। দূরের যাত্রায় জুতো-মোজা খুলতে হলে অবশ্যই বাকিদের কথা মাথায় রেখে নতুন মোজা পরে বিমানে উঠুন।

4. খুব অল্প জায়গায় বসে আপনাকে সফর করতে হচ্ছে। তাই চেয়ার হেলানোর সময় আপনার মাথা যেন অন্যের কোলে গিয়ে না পড়ে।

5. টিকিটে লেখা নির্দেশ ভাল ভাবে পড়ুন। জেনে নিন, আপনি কতটা এবং কী কী মালপত্র নিতে পারেন এবং তার জন্য কতটা জায়গা পাবেন।

এয়ার ইন্ডিয়ার প্রাক্তন কর্মকর্তা পার্থ চক্রবর্তীর বলেন, ” বেসামরিক বিমান মন্ত্রনালয় মূলত যে পাঁচটি কোড অফ কন্ডাক্ট দিয়েছে, সেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিটি কোড অফ কন্ডাক্ট সব যাত্রীরই মেনে চলা উচিত যাতে সহযাত্রীরা কোন রকম সমস্যায় না পড়েন। সবক’টি এয়ারলাইন্স-কেও এই বিষয়ে আরেকটুু বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”

প্রাক্তন পাইলট সুমন্ত্র রায় চৌধুরী অবশ্য বলেন, ” এমন বহুু যাত্রী আছেন, যাঁরা কোন কোড অফ কন্ডাক্ট মানেন না। অনেক সময় যাত্রীরা মদ্যপ অবস্থায় প্লেনে উঠে পড়েন এবং এর কারণে অসুবিধেয় পড়েন এয়ারলাইন্সের ক্রু এবং সহযাত্রীরা । শুধু তাই নয়, অনেক সময় প্লেন ল্যান্ডিং যখন হয় তখন অনেক যাত্রীরাই সিট ছেড়ে উঠে কেবিন লাগেজ নামানোর চেষ্টা করেন। এটি কিন্তু অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ এবং একেবারে করা উচিত নয় ।’’

Comments (0)
Add Comment