প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ-১ থেকে দ্রুত ঋণ দেয়ার দাবি টোয়াবের

পর্যটন শিল্পে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি

এভিয়েশন নিউজবিডি : ট্যুর অপারেটর অব বাংলাদেশের (টোয়াব) দাবি করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমান আরও বাড়বে। করোনাভাইরাস দুর্যোগ কেটে গেলেও এর ধকল সামলে উঠতে পর্যটন খাতের অন্তত ২ বছর লেগে যাবে। টোয়াব বর্তমান এই পরিস্থিতি  উত্তরনের জন্য আপাতত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসাবে দ্রুত টোয়াব সদস্যদের বিনা শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ-১ এর  আওয়াতায় ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে এই ওয়ার্কিং ক্যাপিটেল প্রদানের দাবি তাদের। পরববর্তীতে মূলধন সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় পরবর্তী ২ বছরের জন্য সহজ শর্তে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী ঋণ প্রদানের দাবি জানান।

রোরবার বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রনালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে টোয়াব সভাপতি মো: রাফেউজ্জামান এই দাবি জানান। চিঠিতে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ-১ এ ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে ব্যাংকগুলোতে এই খাত থেকে তাদেরকে আপদনকালিন ঋন প্রদানের দাবি জানান। টোয়াব সভাপতি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় মোট ৫টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব প্যাকেজের আওতায় মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

মন্ত্রনালয়কে দেয়া চিঠিতে টোয়াব সভাপতি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প। এতে আউটবাউন্ড, ইনবাউন্ড ও আভ্যন্তরীণ পর্যটনের শতভাগ বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই পর্যটন খাত কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। এ কারনে শুধু ট্যুর অপারেটররা নয় বরং এ শিল্প সংশ্লিষ্ট সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। জীবিকা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, এয়ারলাইন্স, পর্যটক পরিবহন, ক্রুজিং ও গাইডিং সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪০ লাখ পেশাজীবী।

দ্য ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে আছেন।

টোয়াবের পক্ষ থেকে এই শিল্পকে রক্ষার জন্য স্বল্প মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। এগুলো হলো অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে টোয়াবের সদস্যদের আপদকালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ-১ এর আওতায় ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের ঋণ সুবিধা প্রদান।

স্বল্পসুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ টোয়াব সদস্যদের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মচারীর বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া, ইউটিলিটি বিল ও অন্যান্য লোকসান সমন্বয়  করার জন্য ঋন প্রদান। এছাড়া মূলধন সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় পরবর্তী ২ বছরের জন্য সহজ শর্তে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী ঋণের দ্রুত ব্যবস্থা করা।

পর্যটনের এই কঠিন সময়ে আগামী তিন অর্থবছরের বাজেটে পর্যটন খাতের সুরক্ষা ও উন্নয়নে বড় অংকের টাকা বরাদ্দ রাখা। টোয়াবের সদস্যদের এআইটি এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ফি, পস মেশিন ট্রানসেকশন ফি ও ইউলিটি বিল, টোয়াবের সহযোগী সদস্যদের যাদের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আছে সেগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট মওকুফ করা এবং যাদের চলমান ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ও সুদ মওকুফ করা।

কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ, সিলেট, বরিশাল ও অন্যান্য অঞ্চলের পর্যটন-সংশ্লিষ্ট স্বল্প আয়ের পেশাজীবীদের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তত্ত্বাবধানে অবিলম্বে আপৎকালীন আর্থিক অনুদান নিশ্চিত করা।

টোয়াব মেম্বারদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তাদের পরিবারকে নূন্যতম ৩০-৫০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা। করোনা ভাইরাসের কারণে টোয়াবের বাৎসরিক মেলা পিছিয়ে দেয়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়েছে টোয়াব। ভবিষ্যতে এই মেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য আগামী ৩ বৎসর মেলার নির্ধারিত বিআইসিসি ভেন্যু ভাড়া মওকুফ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

দেশের সব আর্ন্তজাতিক ও আভ্যন্তরীণ বিমান বন্দরগুলোসহ অন্যান্য পর্যটন আকর্ষণ স্থানসমূহে মিট এন্ড গ্রিট বা ইনফরমেশন বুথ স্থাপনে টোয়াবকে অনুমতি প্রদান করা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদাণ করা। অন অ্যারাইভাল ভিসার পাশাপাশি ই-ভিসা প্রবর্তন করা এবং অন অ্যারাইভাল ভিসা ও ই-ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে টোয়ার-সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রত্যয়ণ ও ভ্রমণসূচি বাধ্যতামূলক করা।

দেশের পর্যটন-পণ্য উন্নয়ন ও প্রসারে ইউএনডব্লিউটিও, ইউএনডিপি, আইএলও, এডিবি, জাইকা, বিশ্বব্যাংক-সহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছে অনুদান ও সহজ-ঋণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পর্যটনের প্রচার, ব্র্যান্ডিং ও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন এবং এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন করপোরেশনের পাশাপাশি টোয়াবকে সম্পৃক্ত করা।

এছাড়াও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক সকল প্রকার অনুষ্ঠান আয়োজনে টোয়াবকে সম্পৃক্ত করা। টোয়াবের সহযোগী সদস্যদের যাদের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আছে সেগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহƒত বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ক্রয়ে ট্যাক্স ফ্রি সুযোগ প্রদান করা। স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা যেন উপকৃত হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী এক বছরের জন্য বিদেশি অনলাইন বুকিং ইঞ্জিন ও পর্যটন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও লেনদেন প্রক্রিয়ায় ক্রেডিট ব্যবহার সীমিত করে টোয়াব সদস্যদের মাধ্যমে সেবা গ্রহণে নিশ্চিত করা।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টোয়াবের সদস্যদের জন্য পজ মেশিন ও ইএমআই সুবিধা প্রণয়নের ব্যবস্থা করা।

Comments (0)
Add Comment