করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও সনাক্তে কোরিয়ান সরঞ্জামাদিই সেরা

এভিয়েশন নিউজবিডি : চীনে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এর চিকিৎসা এবং তা নিরুপনের বিষয়ে চীন যথেষ্ট মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছে। এরপর দক্ষিণ করিয়া, ইতালি, স্পেন, ইউকে, ইউএসএসহ পৃথিবীর বহু দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে । এই ভাইরাসে আক্রান্তদের চিহ্নিত করার জন্য কিট এবং এর চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্তদের এই ভাইরাস সংক্রমনের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন সামগ্রী যেমন পিপিই, গগলস, মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদির ব্যাপক ব্যাবহারের প্রয়োজন দেখা দেয়।

প্রথমে চীন এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়াতে এই ভাইরাস সংক্রমনের পর দুটি দেশই খুব সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করেছে । যার কারনে এরপর আক্রান্ত প্রায় সকল দেশ এই দুটি দেশের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সেবা নেয়া কার্যক্রমকে অনুসরন করেছে । তারই ফলস্বরূপ ইএউভুক্ত বেশ অনেক দেশই প্রধানত চীন এবং সেই সাথে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য কিট এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য পিপিই, গগলস, মাস্ক, গ্লাভস নেবার পদক্ষেপ নিয়েছে ।

এই কারনে চায়না এবং কোরিয়া বিশেষ করে চায়নাতে উল্লেখিত দ্রব্যাদির অর্ডার অনেক পরিমানে বেড়ে যায় । চাইনিজ স্টেট মিডিয়া চিনহুয়া রিপোর্ট করেছে যে মার্চ মাসের প্রথম দিকে প্রতিদিন ১১৬ মিলিওন মাস্ক তৈরি করেছে যা বিগত মাসের চেয়ে ১২ গুন ।

কিন্তু অন্যদেশকে সাহায্য করার চায়নার এই প্রচেষ্টা সহজ হয়নি। কারন উক্ত সরমজাদি ব্যাবহার করতে গিয়ে দেখা গেছে যে চায়না থেকে আমদানিকৃত অনেক সামগ্রিরই মান সঠিক নেই । এই বাতিল প্রক্রিয়া শুরু হয় স্পেন থেকে । তারা ৫৮ হাজার কভিট-১৯ টেস্ট কিট ফেরত প্রদান করেছে। তুরস্কও একই কারনে এই কিট বাতিল করেছে। পরবর্ততে ডাচরা ৬ লক্ষ চায়না তৈরি মাস্ক ফেরত প্রদান করে ।

চায়নার শেঞ্জেন বাইওইজি বাইওটেকনোলজি কোম্পানির স্পেনে পাঠানো কিটগুলো তৈরি করেছিলো বলে জানা যায় যার একুরেছি মাত্রা ছিল ৩০% যা স্থানীয় স্বাস্থ্য অথরিটি থেকে জানা যায়। অবশ্য এই কিটগুলো কূটনৈতিক মিশনের মাধমে চাইনিজদের পাঠানো কিটগুলোর অন্তভুক্ত নয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া বর্ডার ফোরস কর্মকর্তা এবিসি কে জানায় যে ৮ লক্ষ ডলার এর চাইনিজ ত্রুটি পূর্ণ মাস্ক এবং পিপিই তারা আটক করেছে । দক্ষিণ কোরিয়া চায়নার পরই করনাভাইরাস আক্রান্ত হয় এবং তারাও চাইনিজদের মত সাফল্যজনক ভাবে তা সমাধান করে ।

এই কারনে তাদের তৈরি সরঞ্জামাদির প্রতিও অন্যান্য আক্রান্ত দেশগুলোর নজর পরে। সঠিক মান অনুসরণ করে পিপিই, গগলস, মাস্ক, গ্লাভস প্রস্তুত করা কোম্পানিদের সংশ্লিষ্ট কোরিয়ান অথরিটি এফডিএ সার্টিফিকেট প্রদান করেছে। তাছাড়া কোরিয়ানদের তিনটি কোম্পানি করোনাভাইরাস নির্ধারনের জন্য কিট ইউএসএ এফডিএ এর প্রিলিমিনারি এপ্রুভ্যাল পেয়েছে বলে জানা গেছে ।

ইউএস এ কোরিয়ার তৈরি কিট ব্যাবহার করছে বলেও জানা যায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়াকে জরুরি ভিত্তিতে কিট পাঠাবার জন্য অনুরোধ করেছে। রুমানিয়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রাত সরঞ্জামাদি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সংগ্রহের জন্য ন্যাটোর একটি ছি-১৭ পরিবহন প্লেন পাঠানোর বাবস্থা করেছে। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি কোন সরঞ্জাম কোন দেশ বাতিল করেছে বলে জানা যায়নি ।

বিশ্ব এখন করোনাভাইরাস আক্রান্ত । আমাদের দেশও এই করোনাভাইরাস আক্রান্ত । আমাদেরও কিট, পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক ইত্যাদির প্রয়োজন। একটি বিশ্বস্ত কিট দিয়ে যে কোন রোগীর ই করোনাভাইরাস আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া খুবই জরুরী । তানা হলে ত্রুটিপূর্ণ কিট ব্যাবহার করার ফলে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর রেজাল্ট নিগেটিভ আসলে তা হবে দেশের জন্য বিরাট ঝুকি।

এই নিগেটিভ রেজাল্ট পাওয়া রোগী নিজে তো চিকিৎসা পাবেই না বরং অন্য দশ জনকে আক্রান্ত করবে। পিপিই, গ্লভস, মাস্ক ইত্যাদি মান সম্পন্ন না হলে স্বাস্থ্য কর্মীগণ ঝুকির মধ্যে থাকবে । তখন আমাদের প্রধান ভরসা স্বাস্থ্য কর্মীগণ আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে । তাই এ সকল জিনিসপত্র আনার বিষয়ে অধিক সচেতন হওয়া আবশ্যক। বর্তমান অবস্থায় পরীক্ষিত এবং এফডিএ সার্টিফিকেট সম্বলিত জিনিষপত্র আমদানির বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া খুবই জরুরী তা সে যে দেশেরই হোক না কেন ।

এই এফডিএ সার্টিফিকেটগুলো সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যামব্যাসি অথবা বাংলাদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দেশের অ্যামব্যাসি দ্বারা ক্রস চেক করবার পরই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত সরমজাদি আনার জন্য বাবস্থা বা অনুমতি দেয়া যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় ।

মারাত্মক ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। জিনের গঠন বদলে প্রতিনিয়ত আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এই ভাইরাস। সনাক্ত করণের কার্যকর কিটের অভাবে  বিশ্বজুড়ে নীরবে ছড়িয়েছে করোনা। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। প্রাথমিকভাবে এই ভাইরাসকে সনাক্ত করা সম্ভব হলে হয়তো অনেক প্রাণ বেঁচে যেত। তবে এবার সনাক্তের কার্যকর কিট তৈরি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তিতে সংক্রামক রোগ সনাক্ত করণের এই দুর্দান্ত কিট আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। তাদের আবিষ্কৃত কোভিড-১৯ ডায়াগনস্টিক কিটটি আন্তর্জাতিক মানের হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে কিটের জন্য অর্ডার আসছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু দেশ এই রোগের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ডায়াগনস্টিক কিট সরবরাহ এসব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করছে। এটি বিদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিত্সা সরঞ্জাম সরবরাহের বাজারকে আরও প্রসারিত করবে বলে আশা করছে দেশটির চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কোরিয়ান এজেন্সি ফর টেকনোলজি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (কেএটিএস) এবং খাদ্য ও ড্রাগ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ শে মার্চ ঘোষণা করেছে যে, অণুজীব এবং রোগজীবাণু সনাক্তকরণের জন্য তাদের ডিএনএ অ্যামপ্লিফিকেশন পরীক্ষার পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (আইএসও) অনুমোদন পেয়েছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রযুক্তিগত কমিটির (ডিআইএস) এটাকে আন্তর্জাতিক মানের বলে খসড়া অনোমোদন দিয়েছে।

এই খসড়া অনুমোদনটি ইন ভিট্রো ডায়াগনস্টিকসের নিউক্লিক অ্যাসিড পরিবর্ধন পদ্ধতির একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। যা বিভিন্ন সংক্রামক রোগ যেমন, কোভিড -১৯ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার কোভিড-১৯ ডায়াগোনস্টিক কিটগুলিতে ব্যবহৃত রিয়েল-টাইম ডিএনএ অ্যাম্পিলিফিকেশন পরীক্ষাসহ নিউক্লিক অ্যাসিড পরিবর্ধনের পরীক্ষার মান হিসাবে কাজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক মান গ্রহণের পদ্ধতিতে, খসড়া স্ট্যান্ডার্ডের জন্য সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে কিটটি। এটিই এর চূড়ান্ত পর্যায়ে একমাত্র অবশিষ্ট পদক্ষেপ। চলতি বছর শেষের আগেই কিছু প্রত্যাশিত মান উন্নয়নের মাধ্যমে এটা আন্তর্জাতিক মানের হিসাবে গৃহীত হবে।

Comments (0)
Add Comment