বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ আক্রমণে স্থবির হয়ে পড়েছে সারা বিশ্ব। করোনায় বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পর্যটন ক্ষাত। বাংলাদেশের পর্যটন ক্ষাতও পড়েছে হুমকির মুখে। পর্যটনের বিভিন্ন ক্ষাতে আর্থিক প্রনোদনা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করেছে হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বলা হয়, আপনি অবগত আছেন যে, হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) হজ ও ওমরাহ এজেন্সিসমূহের সরকার নিবন্ধিত একটি বাণিজ্যিক সংগঠন। রাষ্ট্র নায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে এবং আপনার সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে ইতোমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অপ্রতিরোধ্য গতির সঞ্চার হয়েছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে সেই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাস পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে ইতিমধ্যে ঘোষিত প্রনোদনা প্যাকেজের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।
গত ২৬.০২.২০২০ তারিখ থেকে রাজকীয় সৌদি সরকার ওমরাহ পালন কার্যক্রম স্থগিত করেছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে কম-বেশি আড়াই লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলাম ওমরাহ পালন করে থাকেন এবং এবছর ১ লক্ষ ২০ হাজার হজযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
হাব সদস্য এজেন্সিসমূহ সম্মানিত হজযাত্রীদের বেসরকারিভাবে ওমরাহ ও হজ পালন কার্যক্রমে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করে থাকে। হজে গমনের পূর্বে হজযাত্রীদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, ভিসাকরণ, এয়ার টিকেটের ব্যবস্থা, সৌদিতে অবস্থানকালে আহার, বাসস্থান ও যাতায়াতের বন্দোবস্থ করা, চিকিৎসা, দেশে প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি হজ ও ওমরাহ কার্যক্রমে পূর্ণ প্যাকেজ সুদীর্ঘ কাল থেকে সুনামের সাথে হাব সদস্যগণ দায়িত্ব পালন করে আসছে।
হাব এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১২৩৮। হজ এজেন্সিসমূহের মালিকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা সর্ব সাকুল্যে প্রায় ২০ হাজার। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন এবং অফিস ভাড়া ও অন্যান্য খরচসহ মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকা এজেন্সিসমূহের সর্ব সাকুল্যে খরচ হয়। এছাড়াও এ পেশার সাথে পরোক্ষ ভাবে বাংলাদেশে ও সৌদি আরবে আরো প্রায় ১ লক্ষ লোক নিয়োজিত আছে। বাংলাদেশের মোট হাজযাত্রীর প্রায় ৯৬ ভাগ এবং ওমরাহযাত্রীর শতভাগ কার্যাদি হাব সদস্য হজ ও ওমরাহ এজেন্সির প্রত্যেক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। হাব এর সদস্যগণ ট্রাভেল ও ট্যুর অপারেশনের সংগেও সংশ্লিষ্ট। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হজ, ওমরাহ, ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেক্টরসমূহ।
ইতিমধ্যে হাব সদস্যদের ঘটে যাওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ:
গত ২৬/০২/২০২০ তারিখে সৌদি সরকার ওমরাহ বন্ধের ঘোষণার পর ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রীর ভিসা, এয়ার টিকেট, মক্কায় হোটেল ভাড়াসহ পূর্ণ প্যাকেজে মূল পরিশোধ করা হয়েছিল, যার পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা। অধিকন্তু আসন্ন রমজান মাসে ওমরাহ হজে গমনকারীর জন্য আরও ৫ হাজার এয়ার টিকেট অগ্রিম ক্রয় করা ছিল যার মূল্য ২৫ কোটি টাকা। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন ও অন্যান্য অফিস খরচসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এ বাবদ নীট লোকাসনের পরিমাণ ১৭৫ (একশত পচাঁত্তর) কোটি টাকা।
সম্ভাব্য ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতির পরিমাণ:
আগামী রমজান পর্যন্ত কমপক্ষে আরও ১ লক্ষ ওমরাহ যাত্রীর ওমরাহ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। এক্ষত্রে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ হতো প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। অধিকন্তু, এবছর বেসরকারিভাবে ১ লক্ষ ২০ হাজার হাজযাত্রী হজ পালন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। যদি কোন কারণে ২০২০ সালে বাংলাদেশের হজযাত্রীগণ পবিত্র হজে যেতে না পারেন, তাহলে এ বাবদ ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং এ লোকসান পূরণের কোন সম্ভাবনা থাকবে না। তাছাড়াও এ অর্থ বছরের শেষ অর্থাৎ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত হজ ও ওমরাহ এজেন্সিসমূহের ওভার হেড খরচ যেমন অফিস ভাড়া ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি মাসিক প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ সর্বমোট ব্যবসায়িক লেনদেন এবং নীট ক্ষতির পরিমাণ হবে ৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। উল্লেখ্য যে, অনেক এজেন্সি পুরা বছরের অফিস ভাড়া ও কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করার সক্ষমতা হারাবে। করোনা ভাইরাসের কারণে এ সেক্টরটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে আগামীতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১০ হাজার কর্মচারী এবং বাংলাদেশে ও সৌদি আরবের প্রবাসী বাংলাদেশিসহ পরোক্ষভাবে জড়িত ৫০ হাজার ব্যক্তির চাকুরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেক্টরের ক্ষতি:
হাব সদস্যদের সকলেই ট্রাভেল এজেন্ট, অনেকেই ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটন শিল্পের অন্যান্য সেক্টরের সংগে সংশ্লিষ্ট। তাঁদের অনেকেই Aviation, Inbound and Outbound Tourism, Domestic Tourism, Hotel and Resort, Tourist Transportation ইত্যাদি ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট। করোনা ভাইরাসের কারণে এ সেক্টরগুলো সম্পূর্ণরূপে বিপর্যন্ত হয়েছে। ফলে হাব এর অনেক সদস্য এখানেও ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন এবং এ সেক্টরগুলোতেও অনেক কর্মকর্তা/ কর্মচারীর চাকুরী হারানোর সম্ভাবনা বিদ্যমান।
প্রনোদনা প্রস্তাব:
১) হজ ও ওমরাহ এজেন্সিসমূহের ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া ক্ষতি পূরনের জন্য নগদ প্রনোদনা প্রদান;
২) হজ ও ওমরাহ এজেন্সিসমূহের জন্য ১৫০০ কোটি টাকা সুদ মুক্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের ব্যবস্থাকরণ;
৩) ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ প্রনোদনার ব্যবস্থা করা;
৪) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রনোদনা প্যাকেজ ১ এর আওতায় ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ প্রদানের ব্যবস্থাকরণ;
এমতাবস্থায় হাব সদস্য হজ, ওমরাহ, ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর সহ সংশ্লিষ্ট এই গুরত্বপূর্ণ সেক্টরটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং এই সেক্টরের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং এই সেক্টরের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্রনোদনা প্রদান করার জন্য আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ করছি।