বেবিচকের নতুন শর্তে এখন থেকেই দেশের বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে

উড়োজাহাজের যাত্রীর আসনে আনা যাবে মালামাল

করোনাভাইরাসের কারনে গত মার্চ থেকে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটের নিয়মিত সকল ফ্লাইট। ফ্লাইট চালু না থাকায় ব্যবসা গুটিয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে দেশীয় চার বিমানসংস্থা। এ অবস্থায় যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলোতে কার্গো পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এমনকি কার্গো হোল্ডের পাশাপাশি যাত্রীদের আসনেও পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহনের জন্য দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো ও হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিদেশী যাত্রীবাহী এয়ারলাইনসগুলোও এ সুবিধা নিতে পারবে। এরই মধ্যে এয়ারলাইনসগুলোর জন্য কার্গো পরিবহনের গাইডলাইনও তৈরি করেছে বেবিচক।

এতদিন উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের কার্গো হোল্ডে মালামাল পরিবহনের অনুমতি থাকলেও নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী যাত্রী আসনেও পণ্য পরিবহন করতে পারবে বিমান সংস্থাগুলো। তবে এজন্য নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বেশকিছু শর্ত বেঁধে দেয়া হয়েছে। মূলত দেশীয় যাত্রীবাহী বিমান সংস্থাগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিকল্প আয়ের এ সুযোগ সৃষ্টি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বাংলাদেশ বিমান সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের প্যাসেঞ্জার কম্পার্টমেন্টে পণ্য পরিবহনের জন্য এরই মধ্যে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বেবিচক থেকেও কার্গো পরিবহনের অনুমতি পেয়েছে এয়ারলাইনসটি। প্রাথমিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি থাকা গন্তব্যগুলোতে চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বিমান।

করোনার এ আপত্কালে বিভিন্ন দেশ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিশেষ করে মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের দুর্যোগের সময় স্বাস্থ্যসেবাকে সচল রাখার জন্য চিকিৎসকদের জন্য প্রয়োজনীয় পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্কসহ নানাবিধ পণ্য আমদানি করার কাজে ব্যবহার হবে উড়োজাহাজগুলো। এছাড়া জরুরি রফতানি পণ্যসামগ্রী বিশেষ করে গার্মেন্টস পণ্য, পচনশীল দ্রব্য, শাক-সবজি ইত্যাদি বিদেশে রফতানিতে ভূমিকা রাখবে এয়ারলাইনসগুলো।

এদিকে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও। করোনা দুর্যোগে দেশের আমদানি-রফতানি সচল রাখার উদ্দেশ্যে এয়ারলাইনসটিকে এ অনুমোদন দিয়েছে বেবিচক।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, ভারত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্গো পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে কার্গো পরিবহনে যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি আছে, সেসব দেশেও তারা কার্গো পরিবহন করতে পারবে।

প্রসঙ্গত,করোনাভাইরাসের কারণে ১৬ মে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেবিচক। তবে এ সিদ্ধান্ত শুধু শিডিউল প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে। বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে চার্টার্ড ফ্লাইট এর আওতামুক্ত থাকবে। কার্গো, ত্রাণ-সাহায্য, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি অবতরণ ও স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম চালু থাকবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.