আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই নিয়মিত চমক উপহার দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে এবার আইপিএলেও দেখা যাচ্ছে তাঁর জাদু। ক্রিকেট-বিশ্ব মেতেছে মুস্তাফিজ-বন্দনায়। কাল দুপুরে হায়দরাবাদের এক কর্মকর্তার সহায়তায় মুঠোফোনে কথা হলো ক্রিকেটের এই বোলিং বিস্ময়ের সঙ্গে। হায়দরাবাদের হোটেল আইটিসি কাকাতিয়ায় নিজের রুম থেকে মুস্তাফিজ প্রথম আলোকে জানালেন তাঁর আইপিএল-অভিজ্ঞতা।
* প্রথমবারের মতো একা গেছেন বিদেশে খেলতে। শুরুতে নিশ্চয়ই টেনশন কাজ করেছিল। এখন কেমন লাগছে?
মুস্তাফিজুর রহমান: আপনাদের দোয়ায় সব ভালোই যাচ্ছে। আর আমার সব জায়গাই ভালো লাগে। এটা ঠিক, বিদেশে এর আগে কখনো এভাবে একা আসিনি। এর আগে বিদেশে খেলতে গিয়েছি, তবে সব সময় দলের সঙ্গে ছিলাম। যা-ই হোক, ভালোই লাগছে।
* দেশের বাইরে আছেন। বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে নিশ্চয়ই?
মুস্তাফিজ: আইপিএল খেলতে আসার আগে কদিন বাড়িতে কাটিয়ে এসেছিলাম। বাবা-মায়ের কথা বেশি মনে পড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে বাড়ির সবার সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়। এলাকার বন্ধুবান্ধবের কথাও খুব মনে পড়ে। বাড়ি থাকলে ওদের সঙ্গেই বেশি সময় কাটে। সবাইকে ভীষণ মিস করছি। আসলে সবার সঙ্গে কমবেশি কথা হয়। খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। পেশাদার ক্রিকেটারদের জীবন তো এমনই, কিছু করার নেই।
* হায়দরাবাদে সবচেয়ে কী বেশি ভালো লাগছে?
মুস্তাফিজ: হায়দরাবাদ এখনো ঘুরে দেখা হয়নি। এ মুহূর্তে তাই এটি বলতে পারছি না।
* এই কদিনে সতীর্থদের মধ্যে কে আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন?
মুস্তাফিজ: সবার সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ হয়ে গেছি। সবাই আমার সিনিয়র, তারপরও খাতির হয়ে গেছে দলের সবার সঙ্গেই।
* হায়দরাবাদ দলে তো এখন নাকি বাংলা শেখার ধুম পড়ে গেছে! আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি বাংলা শিখতে চান কে?
মুস্তাফিজ: (হাসি) সবাই চায়। কার কথা বলব, ট্রেন্ট বোল্ট, ডেভিড ওয়ার্নার, টম মুডি…সবাই বাংলা শিখতে চায়।
* আপনার কাছে তাঁরা সাধারণত কী ধরনের বাংলা শিখতে চান?
মুস্তাফিজ: এই ধরেন, ছোটখাটো বিষয়…আমি খুব বেশি জানি নাকি! যতটুকু জানি, ততটুকুই ওদের বলি।
* অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে সাধারণত কী ধরনের কথা হয় আপনার? তিনি কীভাবে নির্দেশনা দেন?
মুস্তাফিজ: ক্রিকেটের ভাষা সব জায়গায়ই এক। আমার সেটা বুঝতে তেমন সমস্যা হয় না। সে যা বলে তা কমবেশি সবই বুঝি।
* হায়দরাবাদের বোলিং কোচ মুত্তিয়া মুরালিধরন। তিনি তো ছিলেন অফ স্পিনার। পেসার হিসেবে আপনাকে সাধারণত কার সঙ্গে বেশি কাজ করতে হয়?
মুস্তাফিজ: এখানে আসলে কাজ করার মতো তেমন কিছু নেই। টেকনিক্যাল বিষয়ে শেখারও তেমন কিছু নেই। তবে কেউ যদি পরামর্শ দেয়, সেটা শিখে রাখব। পরে সময় বুঝে সেটা নিয়ে কাজ করব।
* কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে সাকিব আল হাসান কদিন আগে গিয়েছিলেন হায়দরাবাদে খেলতে। তাঁর সঙ্গে একটা ছবিও পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। সাকিবের সঙ্গে দেখা হওয়ায় নিশ্চয়ই ভালো লেগেছে।
মুস্তাফিজ: হ্যাঁ, তা তো লেগেছেই। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কাটিয়েছি সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে। ওনারা তো দুই দিন ছিলেন হায়দরাবাদে। আমরাও তখন ব্যস্ত ছিলাম খেলা নিয়ে। এক সকালে দুজন একসঙ্গে নাশতা করলাম। বেশ গল্প-আড্ডা হলো। ভালোই সময় কেটেছে দুজনের।
* সতীর্থ কিংবা অন্য দলের বোলাররা কি আপনার বোলিং-রহস্য জানতে চান?
মুস্তাফিজ: টিপস তো সবাই চায়। যে জানতে চায় তাকে বলি, তোমার যেটা আছে, সেটাই তোমার জন্য সেরা। আমার যেটা আছে, সেটা আমার কাছে সেরা। কীভাবে বোলিং করি, সেটা তাদের বলি। তবে আমি হয়তো যেটা পারি, সেটা আরেকজন না-ও পারে। ওপরওয়ালা সবাইকে সবকিছু দেন না। বলি, আমার কৌশল রপ্ত করতে গিয়ে নিজেরটা নষ্ট করো না।
* ম্যাচ কিংবা অনুশীলন না থাকলে সময় কাটে কীভাবে?
মুস্তাফিজ: ফোনে বাড়িতে কথা বলি। বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ হয়। গান শুনি। ঘুরি-টুরি না, রুমে থাকতেই ভালো লাগে।
* ওখানকার খাবার কেমন লাগছে? হায়দরাবাদি বিরিয়ানি নিশ্চয়ই খাওয়া হচ্ছে?
মুস্তাফিজ: পুরোপুরি এক না হলেও বাংলাদেশের অনেক খাবার এখানে পাওয়া যায়। হায়দরাবাদি বিরিয়ানি খেয়েছি দুই দিন। ভালোই লেগেছে।
* আপনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার এক বছর পূর্ণ হলো ২৪ এপ্রিল। যদি পেছনে ফিরে তাকান, এ সময়ে আপনার জীবনে কী কী পরিবর্তন এসেছে?
মুস্তাফিজ: আগেও বলেছি, কোনো পরিবর্তন আসেনি। আমি আগের মতোই আছি।