উড়োজাহাজে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান ইইউর

উড়োজাহাজে ভর্তুকির অভিযোগে ইইউর উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপকৃত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নির্দেশনার সঙ্গে সংগতি রেখে এয়ারবাস তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে—এ দাবি ২৭ সদস্যবিশিষ্ট ব্লকটির। খবর এএফপি।

ইউরোপে নির্মিত উড়োজাহাজসহ বিস্তৃত খাদ্য ও কৃষিপণ্যে শতকোটি ডলারের শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ওই শুল্কারোপ বড় বোঝা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার এয়ারবাস জানায়, তহবিলে সুদহার বৃদ্ধিকারী ফ্রান্স ও স্পেন সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে তারা। এ৩৫০ দূরপাল্লার জেট নির্মাণে প্রয়োজনীয় ওই তহবিল গঠন যথাযথ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ডব্লিউটিও।

ইউরোপীয় কমিশনও বলছে, ডব্লিউটিওর রায়ের ফলে ইইউর রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা থাকে না। ইইউর বাণিজ্য কমিশনার ফিল হোগান এক বিবৃতিতে বলেন, ইউরোপীয় পণ্যে অন্যায্য শুল্ক আরোপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এয়ারবাস মামলা থেকে উদ্ভূত কমপ্লায়েন্স ইস্যুর পরিপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে সব অন্যায্য শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করুক—এ দাবি জানাচ্ছি।

এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের মধ্যে মহাকাব্যিক বিরোধের সূত্রপাত হয় ২০০৪ সালে। ওয়াশিংটনের তরফে তখন অভিযোগ উঠেছিল এয়ারবাসের বেশকিছু মডেলের উড়োজাহাজ নির্মাণে অবৈধ ভর্তুকি ও অনুদান প্রদান করে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন। তার এক বছর বাদে বোয়িংয়ের বিরদ্ধে ইইউ অভিযোগ তুলে যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা জায়ান্টটি ১৯৮৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ১ হাজার ৯১০ কোটি ডলার বিধিবহির্ভূত ভর্তুকি গ্রহণ করে।

দুই উড়োজাহাজ নির্মাতা জায়ান্ট তার পর থেকে একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ করে আসছে এবং আইনি খাদে আটকা পড়ে আছে। ২০১৯ সালে ইইউর পণ্যে ৭৫০ কোটি ডলার শুল্ক আরোপ অনুমোদন করে ডব্লিউটিও। ওয়াইন, পনির ও জলপাইয়ের মতো কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে ওয়াশিংটন।

গত মার্চে এয়ারবাসের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে। এতে যেসব মার্কিন উড়োজাহাজ সংস্থা এয়ারবাসের উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করত, তারা বড় একটি ধাক্কা খায়।

গত জুনে আরো ৩১০ কোটি ডলারের ইইউ পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ডব্লিউটিওর রায়ের ভিত্তিতে এটা করার সুযোগ ছিল ওয়াশিংটনের।

এয়ারবাস বলছে, অতিরিক্ত শুল্ক ও নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে উঠতে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এগিয়ে এসেছে তারা।

ফ্রান্সভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা জায়ান্টটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) কর্তৃক আরোপিত শুল্কে সব শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কভিড-১৯ সংকট বেশ জটিল পরিস্থিতির সামনে এসে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার এয়ারবাস জানায়, সরকার থেকে গৃহীত তহবিলে সুদহার বাড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ডব্লিউটিওর স  নির্দেশনা অনুসরণ করেছে তারা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ১৬ বছরের আইনি লড়াই শেষে এটা হচ্ছে দীর্ঘ বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বশেষ ধাপ। এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দায় অতিরিক্ত শুল্ক বহালের কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছে না ইইউ।

ইইউ কমিশন তাদের বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ স্বার্থে এ ক্ষতিকর শুল্ক থেকে বিরত থাকবে এবং শিল্ক ও কৃষি খাতকে অপ্রয়োজনীয় বোঝা থেকে রেহাই দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইইউ কমিশনার হোগান বলেন, কোনো ধরনের বন্দোবস্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যেও বড় অংকের শুল্ক আরোপে বাধ্য হবে ইইউ। ডব্লিউটিওর রায়েও তার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.