হামলার জবাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা বলেছে, ইসরাইলের হামলার কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছেন।
ইরানের সামরিক টার্গেটে হামলা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, কিছুক্ষণ আগে আইডিএফ ইরানের বেশ কিছু সামরিক টার্গেটে যথার্থভাবে টার্গেট করে হামলা সম্পন্ন করেছে। এরপর আমাদের বিমানগুলো নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছে।
ইরানে চালানো ইসরাইলি হামলার কড়া নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববাসী। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে সংযত ও সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরানের এক সময়ের ঘোর প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। তারা ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে, এর মধ্য দিয়ে ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে- চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার মতো অবস্থা প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব তার কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করছে। এই সংঘাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো এবং এর জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়বে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরান ও সৌদি আরব তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে উন্নত করেছে। উচ্চ পর্যায়ে বেশ কিছু মিটিং হয়েছে। চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে এই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয় দুই দেশ। সে অনুযায়ী তারা একে অন্যের দেশে দূতাবাস খুলেছে। ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরাক, পাকিস্তান, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
তেহরান নিশ্চিত করেছে ইসরাইল হামলা করেছে। এর আগে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী দাবি করে তারা ইরানের সামরিক টার্গেটগুলোতে হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি পরে নিশ্চিত করেছে ইরান। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে তেহরান, খুজেস্তান এবং ইলাম প্রদেশে তাদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এসব হামলাকে সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে। ফলে কিছু স্থানে সীমিত পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরাইলি পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেল আবিব। বৃহস্পতিবার রাতে এক হামলায় নিহত হন ওই সেনারা। নিহতের পাশাপাশি আরও সাত সেনা আহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের সময় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ৮নং আর্মড ব্রিগেডের ৮৯তম ব্যাটালিয়নের রিজার্ভ সেনা ছিলেন। এরমধ্যে মাওরি নামের এক সেনা ব্যাটালিয়নের উপকমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দখলদার ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের প্রাথমিক তথ্যে জানিয়েছে, নিহত এসব সেনা দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা রকেট ছোড়েন। হামলার মুখে পড়ার সময় ওই সেনাদের কাছে যুদ্ধ রসদ পৌঁছে দিচ্ছিল অন্যান্য সেনারা। প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও জানিয়েছে, রসদ গ্রহণের যে মিটিং পয়েন্ট ছিল সেখানে বেশ কয়েকটি রকেট ছোড়ে হিজবুল্লাহ। যারমধ্যে একটি রকেট আঘাত হানে একটি বাড়িতে। যেটির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেনারা। যারা রসদ পৌঁছে দিতে গিয়েছিল তাদের মধ্যেও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গাজা যুদ্ধের শুরুতে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে। এতে করে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ এক বছর পার করেছে। তবে সম্প্রতি লেবাননের অভ্যন্তরে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। যাতে হিজবুল্লাহর সাথে তাদের উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছেছে। এরমধ্যে হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হাশেম সাফিউদ্দিনকে হত্যা করেছে ইসরাইল।
