দুর্নীতির অভিযোগে বিমানের কর্মকর্তা বরখাস্ত, পদোন্নতিও স্থগিত

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত

বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত এবং পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে সংস্থাটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রশীদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি ছিলেন। তবুও সম্প্রতি তাকে বিমানের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিমান কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বুশরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৯ মে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে ২০ মে থেকে বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন সার্ভিস রুলস, ১৯৭৯-এর ৫৮ ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রশীদ এর আগে ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক হিসেবে মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত সোমবার তাকে পরিচালক পদে উন্নীত করা হয়। কিন্তু পদোন্নতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংস্থার ভেতরে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো অভিযোগগুলো সামনে আনতে শুরু করেন।

তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে সফটওয়্যার কেনাকাটার নামে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। যদিও অভ্যন্তরীণ তদন্তে তিনি দায়মুক্তি পান, তবুও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোতে বহাল ছিলেন। গত ৪ মার্চ তাকে পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পদ থেকে অর্থ ও হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়। পরদিনই তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালক প্রশাসন ও মানবসম্পদ পদও দেওয়া হয়। পরে তাকে অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও দেওয়া হয়, যা মহাব্যবস্থাপক পদের চেয়েও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। এখন সবাই নজর রাখছে দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান তদন্ত এবং বিমানের পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN